রিসেট

১৩০০ কারখানা ঝুঁকিতে

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই (শুক্রবার), ২০২৫ Archive 2022Source: এম এম মাসুদ

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কমানোর দরকষাকষিতে সরকারের প্রস্তুতিতে ব্যবসায়ীরা হতাশ। তবে শেষবারের মতো চেষ্টা করছেন সরকার। ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্য আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কাছে ফের ই-মেইল পাঠিয়ে সময় চেয়েছে ঢাকা। অবশ্য বৈঠকের সময় এখনো জানায়নি ওয়াশিংটন। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন আশা করছেন শিগগিরই ওয়াশিংটনের ডাক পাবো। 

ওদিকে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক আগামী ১লা আগস্ট কার্যকর হওয়ার কথা। এতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশের সঙ্গে নতুন ৩৫ শতাংশ যুক্ত হলে অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ শুল্কহার দাঁড়াবে। এই হার কমিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ও দরকষাকষি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে পুরোপুরি আশা ছেড়ে দেননি ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে এখনো ভালো কিছু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার প্রধানের যত ধরনের যোগাযোগের উৎস আছে, সব কাজে লাগিয়ে শেষবারের মতো চেষ্টা করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর দরকষাকষির শুরু থেকে বেসরকারি খাত, অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে শুল্ক কমানোর বিষয়ে এখন খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না দেশের রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত শুল্ক না কমলে তার ভুক্তভোগী হবেন রপ্তানিকারকরা।

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগে কখনো সে ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েনি। এ ধরনের বেকায়দায় পড়েনি। 
আলোচনার সময় চাইলো ঢাকা: পাল্টা শুল্ক নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য বার বার সময় চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া না পেয়ে এবার সুনির্দিষ্টভাবে আগামী ২৭শে জুলাই মিটিংয়ের সময় চেয়ে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)-কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সময় পেলে সে অনুযায়ী চূড়ান্ত আলোচনা করতে রওনা দেবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। তবে আলোচনার জন্য তৃতীয় দফা বৈঠকের সময় এখনো জানায়নি ওয়াশিংটন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেন, আমরা আশা করছি- শিগগিরই ওয়াশিংটনের ডাক পাবো এবং সেখানে গিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু করবো। এ দফার আলোচনা শেষে দেশের স্বার্থের বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আদায় করার ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকে আরোপিত বাড়তি শুল্ক কমাতে লবিস্ট নিয়োগের চেষ্টা শুরু করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে এ চেষ্টায় এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। 
যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর উচ্চ হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৩২২টি পোশাক কারখানার ওপর প্রভাব পড়বে। বিজিএমইএ পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ১ হাজার ৩২২টি কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে। এর মধ্যে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায় এমন কারখানা ৮২২টি। প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত উৎপাদন ও রপ্তানি করে এ রকম ১০০ কারখানা রয়েছে। যারা এখন সবচেয়ে বড় বিপদে রয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আমরা ১.২ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশ মার্জিন (মুনাফা) ব্যবসা করছি। এখন ২০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক এলে সেটা কঠিন হয়ে যাবে। যদি না ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার পাল্টা শুল্ক আমাদের চেয়ে কম হয়।

ব্যবসায়ীরা হতাশ: দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে রপ্তানি খাতে এমন সংকট কখনো দেখিনি। আমার এক বড় ক্রেতা আমাকে জানিয়েছে, দরকষাকষিতে আমাদের অবস্থান দুর্বল। তাই ভালো ফল আশা করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘সরকার কী করছে বা হালনাগাদ কী অগ্রগতি আছে, তা ব্যবসায়ীরা জানতে পারেননি। 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ২রা এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য ৯ই এপ্রিল ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক বজায় রেখে সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। এই সময়সীমা শেষ হয় ৯ই জুলাই। এর আগেরদিন ৮ই জুলাই ট্রাম্প নতুন করে ঘোষণা দিয়ে জানান, বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কহার হবে ৩৫ শতাংশ, যা আগামী ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করে আসছিল বাংলাদেশ। নতুন হার কার্যকর হলে তখন মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ।