শেষ হয়েছে পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) দশম আসর। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতেছে সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসেন আর মেহেদী হাসান মিরাজদের লাহোর কালান্দার্স। রোববার রান তাড়ায় কালান্দার্সের জয়ের নায়ল কুশল পেরেরা আর সিকান্দার রাজা। অথচ এই ম্যাচে খেলারই কথা ছিল না জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং অলরাউন্ডার রাজার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার দিনের টেস্ট খেলতে তিনি শনিবারও অবস্থান করছিলেন ট্রেন্ট ব্রিজে। সেখান থেকে উড়ে এসে পরদিনই লাহোরকে শিরোপা জিতিয়ে রাজা শোনালেন এই অত্যাশ্চর্য এক ভ্রমণের গল্প।
ফাইনালের দিনটি ছিল ইংল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিন। স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের বিমান ধরার সম্ভাবনা ছিল না রাজার। তবে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ব্যাবধানে টেস্ট হারের পর ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে গেল একদিন আগেই। রাজা শুরু করলেন সেই আশ্চর্য অভিযান। পিএসএল ফাইনাল মাঠে গড়াতে তখন সময় বাকি ২৪ ঘন্টারও কম। নটিংহ্যাম থেকে এক বন্ধুর গাড়িতে করে বার্মিংহ্যামে পৌঁছে বিমানের বিজনেস ক্লাসের টিকিট পাওয়া গেল না, সেখান ডিনার সেরে ইকোনমিতে চড়েই দুবাইয়ের পথ ধরলেন রাজা। গন্তব্যে পৌঁছে সকালের খাবার খেয়ে সেখানে ছয় ঘন্টার বিরতি, ফের গাড়িতে করে আবু ধাবিতে গিয়ে সারলেন মধ্যাহ্নভোজ। সবচেয়ে নিকটের মধ্যে সেখানেই ছিল লাহোরের ফ্লাইট। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যখন কোয়েটা আর লাহোরের টস অনুষ্ঠিত হলো তখনও ভেন্যুতে এসে পৌঁছাননি রাজা, সেই সময় তিনি বিমানবন্দর থেকে মাঠের পথে। তবে লাহোরের একাদশে ততক্ষণে ঢুকে গেছে রাজার নাম। ম্যাচ শেষে সেই রাজাই বনে গেলেন লাহোরের রুদ্ধশ্বাস জয়ের নায়ক!
রাজাকে পাওয়া যাবে কি না, এই শঙ্কায় দু’টি আলাদা একাদশ হাতে রাখে লাহোর। একটিতে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আর অন্যটিতে তার জায়গায় রাজা। সব প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন হওয়ায় রাজাকে নিয়েই মাঠে নামে লাহোর। টসে জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে কোয়েটার পুঁজি দাঁড়ায় ২০১ রান। বল হাতে রাইলি রুশোর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন রাজা। রান তাড়ায় এই ডানহাতি ব্যাটার যখন নামলেন, তখন বোলিংয়ে ছিলেন প্রতিপক্ষের সেরা বোলার মোহাম্মদ আমির। জয়ের জন্য লাহোরের দরকার ২০ বলে ৫৭ রান। ক্রিজে নেমে প্রথম দুই বলেই চার-ছয়ে রাজা জানান দিলেন, স্মরণীয় এই ভ্রমণের গল্পটা তিনি গোমড়া মুখে লিখতে চান না। পরের দুই ওভারে ঝড় তুললেন পেরেরা। শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান। প্রথম তিন বলে আসলো ৫ রান। পরের দুই বলে ফের ছক্কা-চার মেরে হুঙ্কার ছুড়লেন রাজা। তাকে কাঁধে তুলে উল্লাসে মাতলো সতীর্থরা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ার রেকর্ড এটিই। ম্যাচ শেষে রাজা নিজেই শুনিয়েছেন এই অবিশ্বাস্য ভ্রমণের গল্প। এই ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার পরে বলেন, ‘এখানে কিছু করতে এসেছিলাম। ঈশ্বর না করুক, আজ আমরা যদি হেরেও যেতাম তবে অন্তত নিজের মনের ভেতর আমি জানতাম যে এই সময়ে আমি আমার ভাইদের সঙ্গে ছিলাম। আমাদের স্বত্বাধিকারীরা ও অধিনায়ক শেষ ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টায় যা যা করেছেন, তাতে আমি জানি আমার দল কতটা মরিয়া হয়ে আমাকে এখানে চাইছিল। সত্যি বলতে, অবিশ্বাস্য।’
