রিসেট

রহস্যজনক আগুনে পুড়ে ছাই সাজেক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটির সাজেকে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর। সোমবার দুপুর ১টার দিকে অবকাশ রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুসারে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশসহ স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই সময়ে প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল দুপুর ১টায় সাজেক পর্যটন এলাকায় শর্টসার্কিটের মাধ্যমে সাজেক অবকাশ ম্যানুয়েল রিসোর্টসহ পার্শ্ববর্তী রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আগুন মুহূর্তেই আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আগুন নির্বাপণের জন্য রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার, বাগাইহাট এবং খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, বিকাল পর্যন্ত আগুনে সাজেকের একপাশ প্রায় পুড়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ১৪০টির বেশি রিসোর্ট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আগুনে পুড়ে গেছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয়দের নিকট হতে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সাজেকের মেঘসজ্জা রিসোর্টের মালিক মো. শাহিন জানান, ‘অবকাশ রিসোর্টের পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত নই। আগুনে প্রায় ১২০টির মতো রিসোর্ট পুড়ে গেছে।’ সাজেক হেডম্যানের মেয়ে হেলেন লুসাই বলেন, ‘আমাদের বাসাবাড়ি সব পুড়ে গেছে। আমরা কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। আমাদের সব শেষ। এখানে স্থানীয়দের বাড়ি, কটেজ, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট কিছুই নেই। সাজেকের অর্ধেক পুড়ে গেছে।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আকতার জানান, দুপুরের দিকে সাজেকের একটি রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সাজেকে দমকল বাহিনীর কোনো ইউনিট না থাকায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস রওনা হয়। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. খায়রুল আমিন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়াও আটকে পড়া পর্যটকদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করেছি। দীর্ঘদিন স্থানীয়রা দাবি জানিয়ে আসলেও রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস অফিস স্থাপন না হওয়ার পাশাপাশি সাজেকের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন কেন্দ্রকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় মাত্র এক সপ্তাহের মাঝেই দুইবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে অত্রাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাজেকের ব্যবসায়ীদের কাছে স্থানীয় আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল কয়েকদিন ধরেই। সে চাঁদা না পেয়ে পাহাড়ি আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীরা এই আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়াও কয়েকদিন আগে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের একটি ঘরেও রহস্যজনক আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে সামপ্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টির চেষ্টাও করছে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী একটি আঞ্চলিক দলীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।