২০২৫ সালের জুন মাসে আসন্ন হজের আগে, সৌদি আরব ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি কঠোর নিয়ম ঘোষণা করেছে। এ বছর হজে শিশুদের নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার নিশ্চয়তা দিতে এবং হজ পালনের সময় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজে যেতে শিশুদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১২ বছর। গত বছর শিশুদের জন্য সর্বনিম্ন এই বয়স নির্ধারণ করে দেয় সৌদি সরকার।দেশের হজ ও উমরাহ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে যাতে প্রথম বার অংশ নেওয়া হজ যাত্রীরা বেশি গুরুত্ব পান, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও হজ যাত্রার সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। ফলে যাঁরা প্রথমবার সেই সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁদের উপর বাড়তি নজর দেবে সৌদি সরকার। ভিসা নিয়মে কড়াকড়ির পাশাপাশি উন্নত নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ১৪টি দেশের নাগরিকদের কেবলমাত্র সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার অনুমোদন দেবে সৌদি আরব।
বেআইনি ভাবে হজে অংশ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ থাকে প্রায় প্রতি বছরই। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের জন্য দায়ী বেআইনি ভাবে মক্কায় যাওয়া হজ যাত্রীরাই। তা রুখতেই এই ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে। এই বেআইনি ভাবে প্রবেশ করা হজ যাত্রীদের জন্যই ভিড় সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে বলে জানাচ্ছে সৌদি প্রশাসন। নতুন ভিসা পলিসির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বদলে যাওয়া ভিসা পলিসি গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। নয়া সিঙ্গেল এন্ট্রি হজ ভিসা দেওয়া হবে ভারত, আলজিরিয়া, বাংলাদেশ, ইজিপ্ট, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জর্ডন, মরোক্কো, নাইজিরিয়া, পাকিস্তান, সুদান, টিউনিশিয়া এবং ইয়েমেনের বাসিন্দাদের। এই ভিসা পলিসির আওতাতেই সৌদি আরব অনির্দিষ্টকালের জন্য এই দেশগুলির নাগরিকদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার অনুমোদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্যটন, বাণিজ্য এবং পারিবারিক সূত্রে সৌদি আরব যাত্রার ক্ষেত্রে উল্লিখিত দেশের নাগরিকরা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আর পাবেন না। এবারের হজ মৌসুমের জন্য নিবন্ধন করতে নুসুক অ্যাপ এবং অফিশিয়াল অনলাইন পোর্টালের মাধ্যম সৌদি নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। হজ যাত্রীদের তথ্য যাচাই, সঙ্গী যুক্ত করা এবং কোনো ছাড়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ যাত্রীদের তাদের পছন্দের প্যাকেজ নিয়ে ই-ওয়ালেট টপ আপ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর তাদের নির্বাচন চূড়ান্ত করা হবে।
এ ছাড়াও সৌদির হজ যাত্রীদের জন্য চালু করা হয়েছে ইনস্টলমেন্ট পদ্ধতি। প্রথমে ২০ শতাংশ টাকা জমা করতে হবে বুকিংয়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। এর পর রমজান ও শাওয়ালের সময়ে আরও ২০ শতাংশ করে পেমেন্ট করা যাবে। মন্ত্রক বলেছে যে শেষ অর্থ প্রদান না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে না। হজ যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর জন্য, সৌদি মন্ত্রণালয় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেমন নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা প্রচার, হজ যাত্রীদের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আধুনিক ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন তাঁবুর ক্যাম্প এবং পথচারীদের রুট। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২০২৫ সালের হজ মৌসুম ৪-৬ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে, ১২০০ জনেরও বেশি হজ যাত্রী প্রচণ্ড গরম এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মারা গিয়েছিল। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের মতে, ২২টি দেশের ১.৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এবং প্রায় ২ লক্ষ ২২ হাজার সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দা ২০২৪ সালে হজ পালন করতে আসেন।
সূত্র : ফার্স্টপোস্ট
