রিসেট

পুরুষের পেরোনিজ ডিজিজ বা গোপন রোগের চিকিৎসা

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট (বুধবার), ২০২৪ Archive 2022Source: সামসুল হক নাদিম

পেরোনিজ ডিজিজ বা পুরুষাঙ্গ বাঁকার আধুনিক চিকিৎসা রিজেনারেটিভ থেরাপি (শকওয়েভ ও পি-শট বা পিআরপি)। পেরোনিজ ডিজিজ বা পুরুষাঙ্গ বাঁকা হয়ে যাওয়া হলো একটি কানেকটিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার। এ ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের নরম টিস্যুতে ফাইব্রাস প্লাগের বৃদ্ধি ঘটে। প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে এক থেকে চারজনের এই সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে লিঙ্গের টিউনিকা অ্যালবুজিনা অংশে ফাইব্রোসিং প্রক্রিয়া ঘটে। টিউনিকা অ্যালবুজিনা হলো একটি ফাইব্রাস টিস্যু যা পুরুষাঙ্গের কর্পোরা-রোভারনোসা মাংসপেশিকে ঢেকে রাখে। কোনো কারণে যদি এই টিউনিকা অ্যালবুজিনাতে প্রদাহ হয়ে পুরুষাঙ্গ বেঁকে যায়, মেডিকেলের ভাষায় লিঙ্গের এ ধরনের সমস্যাকে পেরোনিজ ডিজিজ বা ফাইব্রাস কেভারনোসাইটিস বলে। যদিও পেরোনিজ ডিজিজের সঠিক কারণ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে এটা জানা যায়, পুরুষাঙ্গের কিছু অংশের স্বাভাবিক ইলাস্টিক টিস্যুর জায়গায় স্কার টিস্যু বা প্লাগ তৈরি হলে এ অবস্থাটি ঘটে। অর্থাৎ স্বাভাবিক পুরুষের ক্ষেত্রে উত্থানের সময় লিঙ্গের ইলাস্টিক টিস্যু বিস্তৃত হয়ে পুরুষাঙ্গকে সোজাসুজি উত্থিত করে তোলে। যেহেতু স্কার টিস্যু ইলাস্টিক বা স্থিতিস্থাপক নয় বরং শক্ত সেহেতু লিঙ্গের অন্যান্য অংশ হওয়ার সময় এটা (স্কার টিস্যু) কঠিন থেকে যায়, ফলে লিঙ্গ বেঁকে যায়। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণেও লিঙ্গ বাঁকা হতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে আঘাত, প্রদাহ বা উত্থিত লিঙ্গে চাপ দেয়া। এ ছাড়াও কিছু রোগের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, ধমনি শক্ত হওয়া, ডায়াবেটিস ও ডিকোয়ারবেনস্‌ টেনোসাইনোভাইটিস। এই সমস্যা হলে লিঙ্গ শক্ত হলে ব্যথা হতে পারে, দড়ির মতো কিছু অনুভূত হতে পারে অথবা অস্বাভাবিক বেঁকে যেতে পারে। পুরুষাঙ্গ চিকন ও ছোট হয়ে যেতে পারে। যৌনমিলন কষ্টকর হতে পারে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পুরুষাঙ্গের আলট্রাসোনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো রকম প্লাগ বা স্কার টিস্যু আছে কিনা তা দেখে পরে রিজেনারেটিভ চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। সঠিক সময়ে পেরোনিজ ডিজিজের চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। রিজেনরেটিভ চিকিৎসা বলতে শকওয়েভ থেরাপি এবং পি-শটকে বোঝায়। শকওয়েভ চিকিৎসা যা একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের বাইরে হতে অভিঘাত তরঙ্গ বা জলতরঙ্গ দেয়া হয়। যা যান্ত্রিক কিন্তু বৈদ্যুতিক নয়। চিকিৎসার এই পদ্ধতিতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে শরীরের নিজস্ব পুনর্গঠন পদ্ধতিকে (ন্যাচারাল গ্রোথ ফ্যাক্টর) কাজে লাগিয়ে নতুন টিস্যু তৈরি করতে সাহায্য করে, যার ফলে পুরুষাঙ্গ সোজা হয়। এই পদ্ধতিতে আমরা যেকোনো একজন রোগীকে তার পেনিসের আক্রান্ত এরিয়াতে শকওয়েভ বা জলতরঙ্গ দেয়া হয়। যার ফলে ওখানে সাইটোকাইনোসিস বলে একটা কেমিক্যাল রিলিজ হয় তখন বডি পার্ট থেকে ব্রেইন পর্যন্ত একটি ইমপালস্‌ যায়, ব্রেইন তখন আপনার আমার শরীরে যে কিছু এনজিওজেনিক বা ন্যাচারাল গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে যেমন-এপিথেলিয়াল নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেস, ভেসেল এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর (ঠঅএঅঋ), সেল প্রোলিফারেটিং ফ্যাক্টর এবং স্টেম সেল কে স্টিমুলেট করে নতুন করে টিস্যু রিজেনারেট করে এবং পেনিস আগের মতো সোজা হয়ে যায়।
পি-শট বা প্রিয়াপাস শট কিংবা প্লেটিলেট রিচ প্লাজমা (পিআরপি) হলো একটি মিনিমাল ইনভেসিভ চিকিৎসা পদ্ধতি। মূলত তিনটি ধাপে পি-শট চিকিৎসাটি সম্পন্ন হয়। একজন ফ্ল্যাবটুমিস্ট রোগীর শরীর থেকে পরিমাণ মতো রক্ত নিয়ে সেন্টিফিউজার মেশিনের মাধ্যমে হাইলি কনসেনট্রেট প্লাজমা আলাদা করা হয়। পরের ধাপে লোকাল এনাসথেটিক জেল দিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়, তারপর ইনসুলিনের মাইক্রো নিডেল দিয়ে ৫-৬টা পয়েন্টে এ ইনজেকশন দেয়া হয়। শকওয়েভ এবং পি-শট রিজেনারেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন টিস্যু রিপেয়ার বা রিজুভিনেট হয়, যার ফলে পুনরায় পুরুষাঙ্গ সোজা হয়। যা পুরোপুরি নিরাপদ ও দ্রুত কার্যকর। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, শকওয়েভ এবং পি-শট চিকিৎসা পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য একজন পুরুষ তার যৌন সক্ষমতা ফিরে পায় এবং উপকৃত হন। যেসব পুরুষের লিঙ্গ উত্থান সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এক নতুন আশার সঞ্চার করেছেন গবেষকরা। অর্থাৎ যেসব পুরুষ সহবাসের সময় লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় ভুগছেন, শকওয়েভ এবং পি-শট চিকিৎসা নিয়ে তারা এ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
লেখক: সার্টিফায়েড শকওয়েব প্রাকটিশনার অ্যান্ড ম্যান সেক্সচুয়াল এক্সপার্ট।
চেম্বার: ইডি ট্রিটমেন্ট সেন্টার ২০৬৬, ১২২৯।
প্রয়োজনে: ০১৯৭৭৬৫৬২৩৭, যঃঃঢ়ং://বফঃৎবধঃসবহঃ.পড়স.নফ