বরিশালে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সমাবেশে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। ৪ জন সাংবাদিকসহ এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। পুলিশ ১১ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
সূত্র মতে, সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গণহত্যা, গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বেলা ১১টায় টাউন হল চত্বর থেকে বাসদ ডা. মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বড় একটি মিছিল শুরু হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। মিছিলটি নিয়ে আদালত চত্বরে রওনা দিলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তর্কাতর্কির একপর্যায়ে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে যমুনা টিভির ক্যামেরা পারসন হৃদয়, যুগান্তরের ক্যামেরাপারসন শামীম আহমেদসহ ৪ সাংবাদিক আহত হন। মিছিলটি পুলিশের বাধা অতিক্রম করে আদালত চত্বরে পৌঁছলে বিজিবি ও পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় বেদম লাঠিচার্জ করা হয়। সূত্রমতে ২০ এর অধিক আহত হয়েছে। পুলিশ ৪ জনকে এ সময় আটক করে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ছিল। সেখানে এসে পুলিশ হামলা করেছে। নারী শিক্ষার্থীদের আহত করেছেন। আমি জানতে পেরেছি অর্ধশত শিক্ষার্থীদের আহত করেছে। অন্তত ১০-১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যেভাবে গ্রেপ্তার চালিয়েছে, সেটাও ন্যক্কারজনক। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করে ডা. মনীষা পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে আসা শিক্ষক বিপ্লব দাস বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষকে ডেকেছিলেন। সবাই আমার ছাত্র। সেই কারণে আমি এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষার্থীরা সদর রোড থেকে আদালতপাড়ায় আসার সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছে। অথচ শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের গোলযোগ করেনি। উপ-পুলিশ কমিশনারের দাবি এখানে বেশ কিছু শিবিরের ছাত্র ছিল, যাদের আটক করেছে তারা। তবে এতে ভিন্নমত জানিয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছিল।
বিকাল সাড়ে ৩টায় ছাড়া পেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক হুজাইফা রহমান জানান, একজন প্রতিবন্ধী পথচারীসহ পুলিশ ১১ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। ওই প্রতিবন্ধীসহ ৫ জনকে কিছুক্ষণ আগে ছেড়েছে। বাকি ৬ শিক্ষার্থী এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছে।
