রিসেট

পর্যটক ‘কম’ শ্রীমঙ্গলে

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই (শুক্রবার), ২০২২ Archive 2022Source: এম ইদ্রিস আলী, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে

ঈদে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের সমাগম কম। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন সাম্প্রতিককালে সিলেটের ভয়াবহ বন্যা ও পর্যটকরা পদ্মা সেতুমুখী হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। ঈদের দিন ও ঈদের পরে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, স্পটগুলো পর্যটক শূন্যতায় অনেকটা নীরব-নিস্তব্ধ। প্রতি বছর ঈদে চা বাগানগুলোতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা হলেও এবার চা বাগানে পুরোপুরি শূন্যতা বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় লোকজন ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্পটগুলোতে। ঈদের পরদিন সোমবার বধ্যভূমি একাত্তরে গিয়ে কথা হয় রাজশাহীর ব্যবসায়ী শামীম হোসেনের সঙ্গে। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মৌলভীবাজার জেলায়। ঈদের আগের দিন এসে তিনি ঘুরেছেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, চা বাগানসহ জেলার বেশ কয়েকটি স্পটে। শামীম জানান, ২০১৮ সালের ঈদেও তিনি এ জেলায় এসেছিলেন। তখন যে পরিমাণ মানুষের আনাগোনা দেখেছেন এবার তার দশ ভাগের একভাগও দেখেননি। তবে পর্যটক কম হওয়ায় এবার তিনি মৌলভীবাজার জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করেছেন বলে জানান। ইকো ট্যুর গাইড শ্যামল দেববর্মা ও সাজু মারছিয়াং বলেন, ‘গত ২ মাস ধরে কোনো পর্যটক নেই। ভেবেছিলাম, ঈদে কিছু আয় হবে তাও হয়নি।’ লেমন গার্ডেন রিসোর্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘অতিমারী করোনাকালীন সময়ে পর্যটকরা এখানে আসার জন্য ব্যাকুল হতেন। আমরা পর্যটকদের ঝুঁঁকি নিয়ে এ জেলায় ভ্রমণে নিরোৎসাহী করি। এখন আমরা পর্যটকদের জন্য ব্যাকুল হয়ে বসে আছি। কিন্তু পর্যটক নেই বললেই চলে।’ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, গত ঈদুল ফিতরে তিনদিনে মোট ৮ হাজার ৯৩২ জন (৬ জন বিদেশিসহ) লাউয়াছড়া দেখতে এসেছিলেন। পর্যটকের প্রবেশমূল্য থেকে মোট রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। এবার ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন সর্বসাকল্যে প্রায় দেড় সহস্রাধিক পর্যটক এ জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।  মৌলভীবাজার জেলা পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম আহমেদ বলেন, ‘এবারের ঈদে পর্যটকদের বরণ করতে পুরো জেলায় তিন শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ প্রস্তুত ছিল। অন্যান্য বছর ঈদের এক সপ্তাহ আগেই সবগুলো বুকিং সম্পন্ন হতো। কিন্তু এবার অনেক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এই ঈদে পর্যটক না আসায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কয়েক কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।’ শ্রীমঙ্গলের টি-রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়ামের ম্যানেজার শামসুদ্দোহা জানান, ব্যবসা নেই বললেই চলে। তবে ঈদের দু’দিন পর থেকে তারা কিছুটা সাড়া পেয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলার সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র বলেন, ‘ঈদের আগে এবং ঈদের দিনও দর্শনার্থী ছিল প্রতিদিন একশ’ থেকে দেড়শ’। ঈদের তৃতীয় দিন থেকে প্রতিদিন এক থেকে হাজার ১২শ’র মতো পর্যটক আসছে। কিন্তু অন্যান্য বছর এই সময়ে প্রতিদিন দর্শনার্থী ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেত।’ শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবাসংস্থার সভাপতি গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ জানান, ঈদে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প সম্পৃক্তদের মূল ব্যবসা হলেও বন্যার কারণে এবার তা হয়নি। ঈদের ব্যবসার ওপর নির্ভর করে বছরের অন্যান্য সময়ের জোগান নিতে হয়। কিন্তু এবার অবস্থা খুবই খারাপ।