রিসেট

ডাকসু প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট (শুক্রবার), ২০২৫ Archive 2022Source: বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এখনো প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। এর আগেই হলে হলে দৌড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চালাচ্ছেন প্রচারণা। তফসিল অনুযায়ী ২৫শে আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর ২৬শে আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের তৎপরতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন ইশতেহার। নানা মাধ্যমে এবং নানা সূত্রে জানা যাচ্ছে, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় নীতি-নির্ধারণী মিটিংয়ে বসছেন নেতারা। কীভাবে বিভিন্ন হলে সমীকরণ সাজাবেন- সে হিসাব কষছেন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। হল সংসদগুলোতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মূলত লড়াই হতে চলেছে।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতাদের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে সংগঠনটিতে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। চলতি মাসে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় বেকায়দায় পড়েছে সংগঠনটি। হলগুলোতে লোকবলের অভাবে প্যানেল দেওয়াই কার্যত সম্ভব হয়নি। খোদ কেন্দ্রীয় নির্বাচনে এজিএস পদ নিয়ে ছিল বিতর্ক, কখনো জাহিদ হাসান, কখনো তাহমিদ আল মুদ্দাসসির। তবে শেষ পর্যন্ত আশরেফা খাতুনকে নিয়েই প্যানেল ঘোষণা করেছে সংগঠন। এদিকে মাহিন সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেই দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র জিএস পদে।

এদিকে নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতেও একইভাবে সাংগঠনিক নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। বাগছাস, ছাত্রীসংস্থা, ছাত্রদল- সকলেই করবেন নির্বাচন। সে অনুযায়ী তোড়জোড়ও চলছে।

ডাকসু’র তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংসদে ১০টি প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে মোট জমা দিয়েছেন ৫০৯ জন এবং ১৭টি হল সংসদে মনোনয়ন জমা হয়েছে ১১০৯টি। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৯ই সেপ্টেম্বর এবং সেদিনই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এবারই প্রথমবারের মতো হলের বাইরে ৮টি কেন্দ্রে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাবিকে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে চায় ছাত্রদল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) পূর্ণাঙ্গ  আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। বাইরে মেস বা হোস্টেলে থাকতে তাদের প্রচুর খরচ হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জীবনধারণের জন্য ৪-৫টি টিউশন করতে হয়। এতে তাদের দিনের বেশির ভাগ সময় টিউশনের পেছনে চলে যায়, যা তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে বাধা দেয়।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল ৩.৫০ সিজিপিএ’র নিচে নেমে যায়। এতে তারা ভালো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে না। ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর করে তাদের পড়ালেখার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

আবিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এখানে চিরকাল থাকতে আসিনি। আমাদের শুধু একটি পড়ার টেবিল আর মাথার ওপর একটি ছাউনি দরকার, যাতে আমরা পড়ালেখা শেষ করে দেশের নেতৃত্বে দিতে পারি। বড় বড় ভবন আমাদের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য না থাকলে টিনের চালা দিয়েও থাকার ব্যবস্থা করবো। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানভীর বারী হামিম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

উমামার ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে ভিপি করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল। বৃহস্পতিবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঘোষিত প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উমামা ফাতেমা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন আল সাদী ভূঁইয়া। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জাহেদ আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক সুমী চাকমা এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে অনিদ হাসান। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সিয়াম ফেরদৌস ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো. রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ইসরাত জাহান নিঝুম এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন নুসরাত জাহান নিসু। এছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (হৃদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজীব হোসেন এবং সাদেকুর রহমান সানি।