রিসেট

ভোটারদের ইভিএম ভোগান্তি

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২১ Archive 2018Source: ইব্রাহিম খলিল ও মু. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম থেকে
চসিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যা ছিল ভোটারদের জন্য একেবারে নতুন। আর এই ইভিএম ভোটারদের ভুগিয়েছে প্রচুর।
নগরীর ৩৭নং উত্তর-মধ্যম হালিশহর ও ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের এই ইভিএম ভোগান্তি চোখে পড়ে।
গতকাল সকালে নগরীর ৩৮নং দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন হালিশহর রাইজিং স্কুলের শিক্ষক মাহবুবুল আলম। তিনি ভোট প্রদানের তথ্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কেন্দ্রের এই কক্ষ থেকে ওই কক্ষে ছোটাছুটি করছেন তিনি।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোট দেয়ার জন্য এসেও ভোট দিতে পারছি না। আমার ভোট কোন বুথে দিতে হবে কোনো তথ্য পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে কারো সহায়তা নেবো তাও হচ্ছে না। যে বুথে গিয়ে ভোট প্রদানের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কোড নম্বর বলি সেই কক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এখানে নেই। অন্য কক্ষে দেখেন। এভবে চারটি কক্ষ ঘোরার পরও আমি ভোট দিতে পারিনি। ইভিএম মেশিনের ভোগান্তিতে পড়ে শেষে বাড়ি ফিরে গেছি।
একইভাবে ৩৭নং ওয়ার্ডের মেহের আফজল স্কুল কেন্দ্রে এনআইডি কার্ডের নম্বর না পেয়ে ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন হাফিজা আক্তার (৪৫) ও তার মেয়ে নুসরাত (২২)। ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম ভোগান্তিতে পড়ে অনেকেই ভোট না দিয়ে ফিরে গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
ইভিএম ভোগান্তিতে অনেক ভোটার কেন্দ্রের একাধিক বুথে ঘোরাঘুরি করার কথা জানিয়েছেন আজিজিয়া সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথের পোলিং অফিসার ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ভোট প্রদানের তথ্যের অভাবে খুব ধীরগতিতে ভোট সংগ্রহ হয়েছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ৮৮৮৮ ভোটের মধ্যে ৩১৪ ভোট সংগ্রহ হয়েছে।      
একইভাবে মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়, দরবেশিয়া সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয় ও মহিচুননেছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৫ হাজারের বিপরীতে ভোট সংগ্রহ হয় মাত্র ৪ হাজার। ৩৭নং ওয়ার্ডের আনন্দবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মমতাজ উদ্দিন বলেন, ৫৭৪১ ভোটের মধ্যে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংগ্রহ হয় ১৮০৪টি। ইভিএম পদ্ধতিতে হওয়ায় ভোট কম সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইভিএম ভোগান্তিতে ভোট দিতে না পারা এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্টেদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি’র ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ হানিফ সওদাগর। তিনি বলেন, প্রথমবার হওয়ায় ইভিএম ছিল ভোটারদের জন্য অজানা এক রোবট।