রিসেট

দিনাজপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২০ Archive 2018Source: স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে
দিনাজপুরের বিরলে রুপালী বাংলা জুট মিলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে এক চা দোকানী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশসহ আহত হয়েছে আরো ১৩ শ্রমিক। নিহত ব্যক্তির নাম সুরত আলী (৩৭)।  তিনি মিলের পাশের চা দোকানদার। হুসনা মোড়ের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সুরত আলী।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৯টায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল চত্বরে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপিএম ও পিপিএম (বার) এবং বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমানসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা নিহত সুরত আলীর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন।

অপরদিকে জুট মিলে শ্রমিক সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ অপ্সাতনামা ১১শ’ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের  করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরল থানার উপ-পুলিশ পুরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের বাদী হয়ে থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
আজ বৃহস্পতিবার সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে রুপালী বাংলা জুট মিলের আশপাশ সুনসান অবস্থায় দেখা যায। মিলের ভেতরে ভাংচুর তা-বের চিহ্ন দেখা যায়। যে ক’জনকে আশপাশে দেখা যায়, তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। এলাকার লোকজন জানায়, বুধবার বিকেলে কোনো নোটিশ ছাড়াই রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিকরা। তারা বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সন্ধ্যার পর থেকে মিল গেটে সমবেত হতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ৮টায় রুপালী বাংলা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম.আব্দুল লতিফ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন চেয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। শ্রমিকদের দাবি না মেনে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ভাংচুর শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে সুরত আলী (৩৭) নামে এক চা দোকানদার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আহত হয় ৩ পুলিশসহ আরো ১৩ শ্রমিক। এ হতাহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য।
জুট মিলের রাজ কুমার (২৪)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রায়হান (১৯) ইব্রাহিম (৫৫)সহ অন্যদের স্থানীয় বিরল স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সুরত আলীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।