ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের সাজা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত। সোমবার হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাহমিনা পলি। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত হলেও ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কেননা, শিশু আইনে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সম্ভবত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে।এ আদেশের ফলে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুরা অ্যাফেক্টেড (মোবাইল কোর্টে তাদের বিচার করা যাবে) হবে।
এর আগে ১১ই মার্চ, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের সাজা দেয়া অবৈধ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সাজা সম্পূর্নভাবে বাতিল ঘোষণা করে। সাজা প্রদান করা ১২১ শিশুর মধ্যে এখনো যাদের মুক্তি দেয়া হয়নি, তারা অন্য কোনো অপরাধে শিশু আদালতে বিচারাধীন না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মুক্তি দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
রায়ে বলা হয়, শিশুদের এভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দ- দেয়া কেবল অবৈধ আর বেআইনিই নয়, চূড়ান্ত মাত্রার অমানবিকতা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার বিচার হবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে। সেখানে বিচারক হবেন কমপক্ষে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট। ১২১ শিশুর মধ্যে কোনো কোনো শিশুকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দ- দেওয়া হয়েছে। এই সাজা দেয়ার মাধ্যমে এক ধরনের প্যারালাল বিচারিক ব্যবস্থা দাঁড় করানো হয়েছে। যা প্রচলিত আইন এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। আদালত রায়ে বলে, যে শিশুদের (১২১ শিশু) দ- দেয়া হয়েছিল এই রায়ের মাধ্যমে তারা যে পুরোপুরি নিরাপরাধ সেটা প্রমাণিত হল।
