ইরাকে মার্কিন অভিযানে ইরানি জেনারেল সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। রোববার দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়- জেনারেল সোলায়মানি শুধুমাত্র ইরানি জনগণের নয়; বরং তিনি বিশ্বের সকল মুসলমান এবং নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের মর্যাদা ও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। মার্কিনীরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে ইরানের কুদস ব্রিগেডের স্বনামধন্য ওই কমান্ডারকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি পদদলিত করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে চেয়েছে।
বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে বলা হয়- এটা জেনে রাখা উচিত যে, সীমালঙ্ঘনের যুগ শেষ হয়ে গেছে। যারা জেনারেল সোলায়মানির মত স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব ও অন্যদের রক্তে নিজেদের হাত রঞ্জিত করেছে তাদের জন্য কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। জেনারেল সোলায়মানি ইসরাইল, আল-কায়দা ও আইএস জঙ্গিদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিলেন উল্লেখ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বাংলাদেশ মিশনের বিবৃতিতে জানানো হয়- তিনি ইরাক ও সিরিয়াকে আইএসের মত রক্তপিপাসু জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্ত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাকে পথের কাঁটা মনে করেছিল মন্তব্য করে ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়- সোলাইমানি এবং অন্যদের রক্ত ইরানের প্রতিরোধ সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাংদেহী নীতিকে অকার্যকর করতে সাহায্য করবে।
বিবৃতি মতে ইরান মনে করে, জেনারেল কাসেম সোলায়মানি ‘শহীদ’ হয়েছেন। তার পুরো জীবন আল্লাহর রাস্তায় নিবেদিত করেছেন। নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের জন্য ‘শাহাদাতের’ উচ্চ মর্যাদা তার প্রাপ্য ছিল। ইরান মনে করে এ ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন বিশেষ করে জেনারেল সোলায়মানি ও আবু মাহদি আল মুহান্দিসের নাম ও স্মৃতি অনন্তকাল বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের মনে অমর হয়ে থাকবে, আর এই অপরাধের যারা হোতা তারা ধিকৃত। বিবৃতি মতে, ৩রা জানুয়ারি ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেঃ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। ওই হামলায় জেনারেল সোলাইমানির সঙ্গে ইরাকের জনপ্রিয় সরকার-পন্থি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবি’র উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দু’দেশের মোট ১০ জওয়ান ও কমান্ডার নিহত হয়। নিহত কমাণ্ডার ও যোদ্ধারা ইরাক ও সিরিয়া থেকে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে উৎখাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়- ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনে জেনারেল কাসেম সোলায়মানির বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
