রিসেট

বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াত চক্রের সদস্য আটক

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর (সোমবার), ২০১৯ Archive 2018Source: জাককানইবি প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় একজনের বিপরীতে অন্য জনের পরীক্ষায় অংশগ্রহনের দায়ে দুই জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নওশিন সায়েরা অদ্রি, পিতা- সাইফুল ইসলাম, বাড়ী- আকোয়া, ময়মনসিংহ। সে ফারহানা তাজমিম কণার হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। যার পরীক্ষার রোল ১৮৬৭৭। নওশিন সায়েরা অদ্রি‘কে নিয়ে আসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হিল্লোল বিশ্বাস, পিতা- হারুনুর রশিদ, বাড়ি- মাগুরা। মো. হিল্লোল বিশ্বাস ২০১৮ সালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি এবং র‍্যাগিংয়ের  দায়ে স্থায়িভাবে বহিষ্কার হন । নওশিন সায়েরা অদ্রি এবং মো. হিল্লোল বিশ্বাস প্রক্সি জালিয়াতি চক্রের সদস্য বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন । তারা সারা বাংলাদেশে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকার মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে থাকেন । প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তারা অনধিক দুইলক্ষ থেকে শুরু করে চার-পাচ লক্ষ টাকা আদায় করে থাকেন । চলতি বছর তারাসহ তাদের চক্র প্রায় এককোটি টাকা ইনকাম করেছেন বলে স্বীকার করেন ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জানা যায় , এই চক্রটি ,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচ ইউনিটে ৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে ঐশর্য দেবনাথ এর হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে । যার রোল H06661 ।


সি ইউনিটে জান্নাতুল ফেরদাউস মীম এর হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে যার রোল C01487 বিল নাম্বার C02719 ।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জান্নাতুল ফেরদাউস লিনার হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে । মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় যার রোল ছিল 126802 , মেরিট স্কোর ২৬১.৭৫ পজিশন ৮৭৫৭ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ইউনিটে মো সাজ্জাদ হোসেনের পরীক্ষা দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে । যার রোল ছিল A21662 ।এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর ৪ টি ইউনিটে কাজ করে এই চক্রটি
প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় সুমাইয়া জান্নাত কাকুলির হয়ে অংশগ্রন করে যার রোল নং ১৮৬৫৭২০ ।

এছাড়াও এই চক্রটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ,পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বাংলাদেশ ব্যাংক,রুপালী ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়োগ পরিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে স্বীকার করেছেন ।

চক্রের মুল হোতা কে এমন প্রশ্নের জবাবে  হিল্লোল বলেন,   সজীব, নাজমুল, মাহফুজুর হাসান রিয়ান এবং রনি এই চক্রটির সঙ্গে কাজ করে । যেখানে মাহফুজুর হাসান রিয়ান আজকের হোতা হিল্লোলের পরিচালক। মাহফুজুর হাসান রিয়ান টাংগাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৩-১৪  সেশনের শিক্ষার্থী ।  তার বাসা ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলায় । তার বর্তমান ঠিকানা একাডেমি রোড ময়মনসিংহ ।
সজীব মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নাজমুল ও রনির বিষয়ে তারা কোন তথ্য দিতে পারেনাই ।
হিল্লোলের এই কাজে সেলটার দেয় চক্রের অন্যতম সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পাভেল ।

এ সময় আটকৃতদের  সঙ্গে ২ টি মোবাইল ফোন, প্রায় ২৫ টি ইডিটকৃত ছবি ,কয়েকটি আইডি কার্ড,একাধিক সিমকার্ড,ডাচ বাংলা ব্যাংক এর একটি এটিএম কার্ড,ও মাদকসেবনের উপকরণ পাওয়া যায় ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান জানান, ‘বি’ ইউনিটের  বিকাল শিফটের পরীক্ষা শুরুর আগে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক রা সন্দেহবাজন ভাবে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে সোপর্দ করে।
আমরা ওদেরকে আইনের আওতায় এনে যথার্থ শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহন করব ।

 সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালতে বিচারকার্য চলছিল । ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ উদ্দিন।   
উল্লেখ্য যে ১৯ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিট, ২০শে নভেম্বর ‘ডি’ ইউনিট এবং ২১শে নভেম্বর ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট যে কোনো তথ্যসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এ পাওয়া যাবে।