রিসেট

সৌদির নতুন জ্বালানিমন্ত্রী হলেন বাদশাহর ছেলে

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার), ২০১৯ Archive 2018Source: মানবজমিন ডেস্ক
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এনেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান। জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহকে সরিয়ে তার পদে নিয়োগ দিয়েছেন নিজের ছেলে প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমানকে। তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সৎ বড় ভাই। এ ছাড়া, দেশটির তেল শিল্পের অভিজ্ঞ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০১৭ সাল থেকে তিনি দেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়, এই প্রথম জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন সৌদি রাজপরিবারের কোনো সদস্য। তেল রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হওয়ায় ও তেল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে সৌদিতে মন্ত্রণালয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোববার এক ঘোষণায় মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব নিজের ছেলের হাতে দেয়ার কথা জানান বাদশাহ সালমান।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এর আগে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী আল-ফালিহকে দেশের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী ও রপ্তানি জায়ান্ট আরামকোর চেয়ারম্যান হিসেবে বরখাস্ত করা হয়। ২০১৬ সালে জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান আল-ফালিহ। সমপ্রতি মন্ত্রিসভায় তার প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ভেঙে খনন ও শিল্প মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে। আরামকো’র শেয়ার বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এসব পরিবর্তন আনছে সৌদি সরকার। তেলের ওপর দেশের অর্থনীতির নির্ভরশীলতা কমাতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইয়াসির আল-রুমায়্যানকে আরামকো’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সৌদি আরবের সরকারি বিনিয়োগ তহবিলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া, ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার।
এদিকে, নতুন জ্বালানিমন্ত্রী আব্দুল আজিজ ১৯৯৫ সালে উপ-তেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। প্রায় এক দশক ওই পদে বহাল ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত সহকারী তেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সৌদির তেল শিল্পের একাধিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, তেলখাতে বহুদিনের অভিজ্ঞতা থাকায় রাজপরিবারের সদস্য হয়েও জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আজিজ। প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সাল থেকে সৌদি আরবে পাঁচ জন জ্বালানিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাদের কেউ রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না।