রিসেট

কোটা আন্দোলনকারীদের ফের পেটালো ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: ৩ জুলাই (মঙ্গলবার), ২০১৮ Archive 2018Source: বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ঢাকা ও রাজশাহীতে ছাত্রলীগের পিটুনির শিকার হন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনকারীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনটির হামলায় বিকাল পর্যন্ত ঢাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রায় ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে দেয়া হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে। এ হামলা থেকে রেহাই পাননি ছাত্রীরাও। হামলাকারীদের রোষানল থেকে নেতাদের বাঁচাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন কয়েকজন ছাত্রী। দুপুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্র নুরুল হক নূরের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে ছাত্রলীগ সেখানেও বাধা দেয়ার চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে বিভাগটির এক শিক্ষকের কড়া প্রতিবাদের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এদিকে শহীদ মিনারে হামলাসহ গত কয়েকদিনে ক্যাম্পাসে সংঘটিত ঘটনার মধ্যে অধিকাংশের বিষয়েই কিছু জানেন না বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। আর দীর্ঘ দেড় মাস ছুটি কাটিয়ে চালু হওয়া ক্যাম্পাসে গতকালও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন দিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার নেতাদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হতে চাইলে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ধরে ধরে মারধর করে আন্দোলনকারীদের। এসময় আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মেরে তাকে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমানের মোটরসাইকেলে করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। এর কিছুক্ষণ পর আবারো আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে চাইলে ফের হামলা চালানো হয়। এ দফায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা যায় শহীদ মিনার এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশকেও। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসতে দেখে তারা নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করেন। হামলায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাকিব হাসান সুইম (ঢাকা কলেজ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল হক, স্কুল কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের সভাপতি বিআই বাঁধন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, সূর্যসেন হলের সভাপতি গোলাম সরওয়ার, বিজয় একাত্তর হলের সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদ, কবি জসীম উদ্‌দীন হলের সভাপতি আরিফ হোসেন, জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, জগন্নাথ হলের সাধারণ সম্পাদক উৎপল দাসসহ ৩৫-৪০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিভাগটির ছাত্র নুরুল হক নূরের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনের শুরুতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিভাগটির এক শিক্ষকের কড়া প্রতিবাদে ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখান থেকে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের স্কুল বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, মহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, সূর্যসেন হলের সভাপতি গোলাম সরোয়ার, বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, বিজয় একাত্তর হলের সভাপতি ফকির আহমেদ রাসেল প্রমুখ নেতাকর্মীরা মানববন্ধনের শুরুতে বাধা দিতে এগিয়ে যান। এসময় তারা মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কটূক্তি করেন। হলে ফিরলে দেখে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয় অনেককে। মানববন্ধন শেষে বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসনীম মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের ছাত্র নুরুল হক নূরের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করছি। কিন্তু আমরা এখানে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে কতিপয় ছাত্র (ছাত্রলীগ)। আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তারা আমাদের বিভিন্ন দলের ট্যাগ দেয়। আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই না। আমরা চাই রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন পরমতসহিষ্ণু একটি ক্যাম্পাস। কিন্তু একটি দলের নেতাকর্মীরা আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেছে। আমরা প্রক্টরকে জানাবো এবং বলতে চাই এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।’

এদিকে বিকালেও শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেহ হলেই ধরে ধরে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে ছাত্রলীগ। বিকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন মানবজমিনকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ আজও আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে তারা ধরে ধরে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে। এতে আমাদের প্রায় ১৫ আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।

তিনি কিছুই জানেন না: শহীদ মিনারের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমনটাই দাবি করেন। এছাড়াও গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অঘটনগুলোর বিষয়েও তাকে কেউ অবহিত করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ অধ্যাপক। অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আজকের (গতকাল সোমবার) হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার প্রক্টরিয়াল বডি বা শিক্ষার্থীরা লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবেই বিষয়টি আমাকে অবহিত করেননি। আমি যেহেতু হামলার বিষয়ে অবহিত নই এবং কেউ যেহেতু অভিযোগ করেনি তাই এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেবো।’ এসময় সাংবাদিকরা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’ বলে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়েও আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। জানালে ব্যবস্থা নেবেন।’ শনিবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘আমাদের কেউ অভিযোগ করেনি। শনিবারের হামলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করবো আমরা। এছাড়া শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে ওইদিনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘শনিবারের হামলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেবো আমরা। এছাড়া শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ গতকাল মুকাভিনেতা মীর লোকমানকে ছাত্রলীগের মারধর ও গতকাল প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিয়েছে বলে এক সাংবাদিক অবহিত করলে প্রক্টর বলেন, ‘গতকাল (গত রোববার) অভিযোগ পেয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছে। আমরা ব্যবস্থা নেবো।’ ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখার দায়িত্ব ছাত্রলীগের না প্রক্টরিয়াল বডির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। অন্য কাউকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়নি।’
রাবিতে আন্দোলনকারীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১২
রাবি প্রতিনিধি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে। এতে গুরুতর আহত একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। আহত তরিকুল ইসলাম তারেক ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ইসলামের স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরে ওই শিক্ষার্থীর ডান পা ভেঙে গেছে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। তাকে রামেকের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পতাকা মিছিল বের করে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর থেকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দিকে আসছিল। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আগে থেকেই রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের কাছে আসতেই তাদের ধাওয়া দিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছত্রভঙ্গ হয় আন্দোলনকারীরা। এসময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় মহাসড়কে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারেক পড়ে গেলে তার ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। লাঠি, রামদা ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের সামনেই মারধর করে। এতে আমাদের ১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’ তবে মারধরের বিষয় অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। তারা দাবি করে তারা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে আসছিল। এসময় ছাত্রলীগ ও তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জেনেছি। এতে একজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি।’

জাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, আহ্বায়ককে আটকের অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত পতাকা মিছিল করতে দেয়নি ছাত্রলীগ। মিছিল শুরুর পূর্ব মুহূর্তে আন্দোলনের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামানকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে টেনে হিঁচড়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া মোটরসাইকেলযোগে সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে টহল দিতে দেখা যায় তাদের। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামান সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের একত্রিত করতে গ্রন্থাগারের দুই তলায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাহিদ হোসেন ও মামনুর রশিদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে। এ সময় কতিপয় শিক্ষার্থী তাকে নিয়ে যেতে বাধা দিলে গণিত বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজিব আহমেদকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে ছাত্রলীগ। এরপর তাকে (আহ্বায়ক) গ্রন্থাগারের পাশে অবস্থিত চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার হাতে থাকা জাতীয় পতাকা কেড়ে নেয় তারা। এ সময় সহকারী প্রক্টর মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে অনুরোধ করেন শাকিলকে যেন মারধর করা না হয়। সেখান থেকে তাকে মওলানা ভাসানী হলে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে জানা যায়।

সর্বশেষ অবস্থা জানতে শাকিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘শাকিলকে ছাত্রলীগ তুলে নিয়ে যায়নি। শাকিল তার আবাসিক হল কক্ষে রয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদল ও শিবিরের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল এমন তথ্য আমাদের কাছে থাকায় ক্যাম্পাসের সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলাম। এ বিষয়ে প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘শাকিলকে তুলে নেয়া হয়নি। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যদি এরকম কোনো অভিযোগ আসে তবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’ এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাবি সাংস্কৃতিক জোট। সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে। এর প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক জোট ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’