সরাইলে ট্যারিফের দোহাই দিয়ে পিডিবি’র লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

সরাইলে ট্যারিফের দোহাই দিয়ে পিডিবি’র লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পিডিবি’র সেবার ধরনে কাবু হয়ে পড়ছেন গ্রাহকরা। সংযোগ দেয়ার দীর্ঘদিন পর ট্যারিফের দোহাই দিয়ে ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিনা রশিদে আদায় করছেন লাখ লাখ টাকা। আবার ট্রান্সফরমার স্থাপনের ভিজিট ৪ লক্ষাধিক টাকা, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অনেকটা দিশাহারা গ্রাহকরা। এ ছাড়া প্রধান কর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ।
সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক সূত্র জানায়, সরাইলের অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে হাওর এলাকায় বা খোলা জায়গায়। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শাহবাজপুর, সরাইল-নাসিরনগর সড়কের দু’পাশে কালীকচ্ছের ধর্মতীর্থ এলাকায় আকাশী হাওর ও পানিশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষা ওই ভাটাগুলোর অবস্থান। প্রত্যেক ভাটার মালিককে শুরুতে বড় ধরনের চুক্তির মাধ্যমেই বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হয়েছে। পিডিবিও দেখে-শুনে সংযোগ দিয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইটভাটার মিটারে পিডিবি’র কর্মকর্তারা ট্যারিফ সমস্যা দেখিয়ে পেছনের লাখ লাখ টাকা বিল দাবি করছে। হঠাৎ পিডিবি’র এমন প্রস্তাবে হতবিহ্বল ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন ইটভাটার মালিক/ব্যবস্থাপকরা। বড় অঙ্কের বিলের চাপে বাধ্য হয়ে রফাদফা করছেন তারা। সরাইল পিডিবি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন হোসেন সরদার যান ধর্মতীর্থ এলাকার সিয়াম ইটভাটায়। প্রায় চার বছর আগে দেয়া ‘সি’ ট্যারিফের সংযোগে ত্রুটি ধরেন তিনি। তার বক্তব্য ‘সি’ ট্যারিফ সংযোগে ইটভাটা চলতে পারে না। শুরু থেকে হিসাব করে ‘ই’ ট্যারিফের বিল দিতে হবে। মালিক মন মিয়াকে ডেকে আনেন পিডিবি অফিসে। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শ করে ১০ লাখ টাকা বকেয়া বিল দাবি করেন। দর কষাকষি করে মন মিয়ার কাছ থেকে শেষমেশ আদায় করেন দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা। ওই টাকা গ্রহণের কোনো রশিদ বা ভাউচার দেননি তারা। মন মিয়া বলেন, ৪ বছর আগে এই অফিসের কর্মকর্তারাই তো সবকিছু যাচাই বাছাই করে সংযোগটি দিয়েছেন। নিয়মিত বিলও পরিশোধ করে আসছি। এতদিন পর একই অফিসের কর্তারা কেন এখন বলছেন ট্যারিফে সমস্যা? আবার বকেয়া কীসের? নগদ দুই লাখ টাকা নিলেন, টাকা প্রাপ্তির কোনো রশিদ বা ভাউসারও দিলেন না। একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে পিবিসিসহ আরও ২-১টি ইটভাটায়। পিবিসি কর্তৃপক্ষ জানান, সুমন সরদার এক্সেনের কথা বলে তাদের কাছ থেকে পেছনের জরিমানা বিল বলে নিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। কিন্তু গ্রাহককে বিলের কোনো কপি বা কোনো ধরনের রশিদ দেননি তিনি। প্রকৌশলী সুমন সরদার সওজের সমস্যার দোহাই দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শাহবাজপুরে রয়েল ব্রিকসের ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেন। পরে এটি থেকে পাশের গ্রামের গ্রাহকদের সংযোগ দেন। ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে আরেকটি ট্রান্সফরমার বসাতে চাপ দেন। ওই ট্রান্সফরমারের জন্য ভাটার কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। ইটভাটা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ৪ লাখ টাকায় রফাদফা করেন। ৪ লাখ টাকার কথা এক্সেনকে জানাতে তিনি নিষেধ করেন। এই ট্রান্সফরমার থেকে আবার স্থানীয় কিছু গ্রাহককেও সংযোগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সরাইল পিডিবি’র (বিক্রয় ও বিতরণ) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদের অফিসিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন