প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বেরোবিতে তালা ভেঙে রুম দখলের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তালা ভেঙে একটি রুম দখলের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)’র বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে বিএনসিসি’র সদস্যরা ওই রুম দখল করেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনসিসি’র বেরোবি ইউনিটের সার্জেন্ট ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিউল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে রুমটির তালা ভেঙে জোরপূর্বক দখল নেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। এ ছাড়া, রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনকেও তারা নিজেদের আগের রুমে তুলে দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক সংগঠন হিসেবে বিএনসিসি শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার জন্য পরিচিত হলেও এমন কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, জাতীয় দিবস বা বিশেষ অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদান ছাড়া বিএনসিসি’র তেমন কার্যক্রম চোখে পড়ে না। এ ছাড়া, বিভিন্ন দিবসে উপাচার্যের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ঘটনাও দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিএনসিসি’র অংশগ্রহণ না থাকায় তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, সংগঠনের অভ্যন্তরেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিনিয়র সদস্যদের উপেক্ষা করে জুনিয়রদের উচ্চ পদে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে বিএনসিসি’র এক স্টাফ নূর নবীর বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। তালা ভেঙে রুমে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জেন্ট সাকিউল ইসলাম শাওন বলেন, আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই রুমে প্রবেশ করেছি। বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বললেই জানা যাবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আকিফ জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো রুম বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বিএনসিসি’র পিইউও ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইফফাত আরা বাঁধন বলেন, এ বিষয়ে আপনারা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে কোনো রুম বরাদ্দ দেইনি। বিএনসিসি যদি এমন কাজ করে থাকে, তা দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন