ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর আংশিক) আসনে দলের এমপি না থাকায় বিএনপি’র মনোনয়নে সেখান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হয়ে সংসদে যেতে চান জেলা বিএনপি’র সদস্য মেহেরুন নিছা মেহেরিন। এজন্য বিএনপি হাইকমান্ডসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা।
সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকা মেহেরিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমি এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছি। অসহায়-দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করছি। এসব কাজের জন্য আমাকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মাননাও দেয়া হয়েছে। আমার স্বামী আসিফ আহমেদও বিএনপি’র রাজনীতির এক পরিচিত মুখ। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিকভাবেই আমরা সবসময় এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবো। তাছাড়া আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। এখানে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নেই। প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে মনোনীত করেন তাহলে তার নির্দেশনায় নির্বাচনী এলাকা সরাইল-আশুগঞ্জ অবহেলিত বলে যে কথা রয়েছে তা মুছে দিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। বিশেষ করে এলাকাকে মাদকমুক্ত এবং যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে কাজ করবো।
মেহেরুন নিছা মেহেরিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. মুক্তার মিয়া ও শামসুন্নাহারের সন্তান। তার দাদা শহর আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আশুগঞ্জ জিয়া সার কারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেছেন মেহেরিন। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পিএইচডি গবেষক তিনি।
তার স্বামী আশুগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু আসিফ আহমেদ আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি। বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেহেরিন ছাত্রজীবন থেকেই পারিবারিকভাবে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্বামী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদের সংসারে আসার পর থেকেই বিএনপি’র রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীর পক্ষে অর্থ ও শ্রম দিয়ে মাঠে সোচ্চার থেকেছেন তিনি। সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তৈরি হয় ভরসার সম্পর্ক। স্বামীর দু’টি উপজেলা নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে সক্ষম হন। দলের দুঃসময়ে তিনি স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন। জুলাই আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রমেও তিনি অগ্রসর মানুষ। বিগত করোনাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন লন্ডনের হাউস অব কমন্স থেকে অ্যাওয়ার্ড। জাপান, কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন। সামাজিক উন্নয়ন ও সেবায় তিনি আলোকিত নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এগ্রো প্রমোশন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসাও। আরিয়ান বিল্ডার্স ইকুইপমেন্ট সাপ্লাইয়ার্স অ্যান্ড ক্যারিং কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন।
রুমিন ফারহানার এলাকায় বিএনপি’র মনোনয়নে নারী এমপি হতে চান মেহেরুন
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
১০ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Sapon Miah
২ মাস আগেমেহেরিন আশুগঞ্জ উপজেলা একটি ধনাত্ব পরিবারের পুত্রবধূ এবং আশুগঞ্জে সন্তান , নারী হয়ে সামাজিক নারীদেরকে নিয়ে কাজ করছে অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত আশা করি কে এমপি হলে এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে।