দেশে বিদ্যমান কীটনাশক পণ্য আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট সহায়ক নীতির বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতার প্রশ্নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপালো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ফিনিশড কীটনাশক পণ্য ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা যায়। অথচ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানিতে দিতে হয় ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত কর। একই সঙ্গে কাঁচামাল আমদানিতেও অযৌক্তিকভাবে বসিয়ে রাখা হয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। কিন্তু ওই ফিনিশড পণ্যে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ছাড়া কোনো ভ্যাট ও শুল্ক ধরা হয়নি।
মঙ্গলবার এনবিআরের সঙ্গে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বামা) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে কীটনাশক পণ্য উৎপাদনে শুল্ক ও অশুল্ক বাঁধাগুলো তুলে ধরা হয়। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এ সবের দায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপান। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত প্রস্তাব দিলেই কেবল এনবিআর শুল্ক কমাবে।
কৃষি মন্ত্রণায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো কীটনাশকের কাঁচামালের ওপর ভ্যাট আরোপ করার বিষয়ে মন্ত্রণায়ল থেকে কোনো সুপারিশ পত্র এনবিআরে পাঠানো হয়নি। এমনকি ভ্যাট বা শুল্ক আরোপ করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়নি। যেই সিদ্ধান্ত নেয়াই হয়নি, সেটা প্রতাহারের কোনো প্রশ্নই আসে না বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত বাজেট বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, কীটনাশকে ব্যবহৃত সকল ধরনের কাঁচামালের ওপর শুন্য শল্ক ধার্যের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি।
এ সময় বামার সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে কীটনাশক পণ্য উৎপাদনে বাঁধা তৈরি করতে বিরাট অঙ্কের শুল্ক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ কীটনাশকে বিদেশি পণ্যের বাজারে পরিণত হয়ে আছে। বামার পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে বারবার বলা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না। আশার কথা বিএনপি সরকার দেশীয় শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেয়ায় অতীতের বঞ্চনা অবসানের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বামা সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে বামার পক্ষ থেকে এনবিআরকে দুটি দাবি জানায়। দাবি দুটি হলো- ১। বালাইনাশক উৎপাদনের কাঁচামাল সহযোগী উপাদানের শুল্ক ৫৮% পর্যন্ত বিদ্যমান। এই শুল্ক হ্রাস করে শূন্য শুল্ক করা হলে আমদানির ব্যয় হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কৃষককে স্বাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা যাবে এবং দুই-তিন বছরের মধ্যে ফার্মাসিটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির ন্যায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে।
২। কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এনবিআর-এর এসআরও নং ১৯৯- আইন/২০২৫/২১/কাস্টমস-এর কারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এনওসি নেয়া বাধ্যতামূলক করায় কাঁচামাল পোর্ট থেকে খালাস করতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পোর্টে ডেমারেজ দিতে হচ্ছে।
উল্লেখিত বিষয় ইতিমধ্যে এনবিআরে ২০২৫ সালের ২৫শে আগস্ট অংশীজনদের মিটিংয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে বলা হয়, “স্থানীয় উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকগণের ক্ষেত্রে বালাইনাশক পণ্যের এক্সিপিয়েন্ট বা সহযোগী উপাদানের উপর আরোপনীয় শুল্ককর হ্রাসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনা হবে এবং এআইটি হ্রাসের বিষয়টি আয়কর বিভাগ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এই বিষয়ে আয়কর অনুবিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে”। পরে ২০২৫ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, “বালাইনাশক উৎপাদনের কাঁচামাল সহযোগী ৩২টি উপাদানের কাঁচামালের তালিকা আমদানি সহজীকরণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে শুল্ক সুবিধার প্রণয়নের জন্য পত্র প্রদান করা হয়”। এমতাবস্থায়, উল্লিখিত শুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং এনওসি প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে এনবিআরের সহযোগিতা কামনা করে বামা। এতে বাংলাদেশে আমদানি নির্ভর এর পরিবর্তে রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করে বামা।
প্রাক বাজেট আলোচনা
কীটনাশক পণ্য উৎপাদনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় বামা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অর্থ বাণিজ্য
৫ মাস আগে
৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৮ঃ২৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
