ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ফন্ট সাইজ:

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ধীরে ধীরে এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। একই সঙ্গে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ফান্ডের পরিসর দ্বিগুণ করে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং সব রপ্তানি খাতের জন্য তা উন্মুক্ত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এসব দাবি তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক আবদুর রহিম খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে অভিনন্দন জানান আবদুর রহিম খান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানান চ্যালেঞ্জের মুখে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাস্তবভিত্তিক মুদ্রানীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে এফবিসিসিআই।
সুদের হার প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলেও আর্থিক খাত, রাজস্ব খাত ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত সহায়তা দেয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমানো, বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং অবাধ রেমিট্যান্সপ্রবাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
সভায় এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ ইম্পোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন ও বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

মো. আলমগীর বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত ইডিএফ তহবিল একসময় ৭ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২.২০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে এ তহবিল পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে। গভর্নর এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ধাপে ধাপে তহবিল বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ইডিএফ ফান্ড বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। গভর্নর এটার সঙ্গে একমত হয়েছেন। আইএমএফের কারণে এটা কমানো হয়েছে। আমরা আড়াই বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি করার কথা বলেছি। পরবর্তী সময়ে তা আট বিলিয়ন করার কথা বলা হয়েছে।’ ইডিএফ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি তহবিল, যেখানে ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল আমদানির জন্য সুদে ডলারে ঋণ পান।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তিন মাস কেউ ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে খেলাপি করা হয়। সেটা বাড়িয়ে ছয় মাস করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে অন্য প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে যায়, সেটা বন্ধ করতে বলেছি। এ ছাড়া ঋণ পুনঃ তফসিল দেয়ার পর সময় ৪ থেকে ৫ বছর দেয়া হয়, তা বৃদ্ধি করে ১০ বছর করার দাবি জানানো হয়েছে।