কঠোর নজরদারি ও সংযত রাজনীতিতে নির্বিঘ্ন ভোট

সহযোগীদের খবর

কঠোর নজরদারি ও সংযত রাজনীতিতে নির্বিঘ্ন ভোট

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘কঠোর নজরদারি ও সংযত রাজনীতিতে নির্বিঘ্ন ভোট’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল থেকে সন্ধ্যা—নির্বাচনের পুরো দিনটিই ছিল উৎসবমুখর। রাজনৈতিক মেরুকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, নির্বাচন হবে কি হবে না—এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। বিচ্ছিন্ন ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ছাড়া বড় কোনো সহিংসতা হয়নি, কেন্দ্র দখল হয়নি, ভোট স্থগিতের ঘটনা ঘটেনি, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল।

বহুদিন পর এমন ভয়হীন পরিবেশে ভোট দিতে পারলেন দেশের মানুষ। সম্মিলিত প্রস্তুতি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং রাজনৈতিক অংশীদারদের সংযত আচরণ—সব মিলিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের পাঠানো সংবাদ, তথ্য, স্থিরচিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ছিল সশস্ত্র বাহিনীর টহল। সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য ভোটের নিরাপত্তায় কাজ করেছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যই ছিলেন ১ লাখ ৩ হাজারের মতো। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা বহুস্তর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সারা দেশে ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, দ্রুত সাড়া দিতে গঠিত দল এবং অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা—এই কাঠামো বাস্তবে কার্যকর হয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বণ্টন করায় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ভোটের নিরাপত্তা নজরদারি ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক যুক্ত করেছে। ২৯৯টি আসনে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্রকে বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এভাবে রিয়েল-টাইম রিপোর্টিংয়ের জন্য বিশেষ অ্যাপ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে একটি ‘ডিজিটাল নজরদারি বলয়’ তৈরি হয়। এসব ক্যামেরার ফুটেজ কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের একটি বড় উদাহরণ দেখা গেছে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে। গতকাল দুপুরে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পাঁচ তরুণ বুথে গিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারছিলেন। এ ঘটনা উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখার পরপরই দ্রুত ছুটে যান পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আধঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, ভোট গ্রহণ, গণনা—প্রতিটি ধাপ নজরদারিতে থাকায় প্রার্থী ও এজেন্টদের মধ্যেও সংযত আচরণ দেখা গেছে। প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাও বাড়িয়েছে।

গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল তিনটি—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। ইতিমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম–খুনসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। সংস্কারের ক্ষেত্রেও সাফল্য দেখিয়েছে সরকার। বাকি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন। এবার সফলতার সঙ্গে সেটিও করেছে সরকার। তবে ‘মব’ সন্ত্রাসসহ কিছু ক্ষেত্রে সরকার সফলতা দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

এই সমালোচনার মধ্যেও এবার নির্বাচন ঘিরে সরকারের দলনিরপেক্ষ অবস্থান ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছিল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার নির্বাচনকালীন প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক নির্দেশনা, মাঠ প্রশাসনে বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস—এসব পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ফলে ভোটের দিন সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান পক্ষপাতের অভিযোগ খুব একটা ওঠেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অতীতের সবগুলো নির্বাচনই কলঙ্কিত হয়েছে। নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই যে দেশে ভালো নির্বাচন সম্ভব, সেটা আবারও প্রমাণিত হলো।

অতীতে এমন দেখা যায়নি​


বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সারা দিনই সেনাবাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলো ঘিরে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। কোনো কেন্দ্রে সামান্যতম হইচই বা বিশৃঙ্খলা হলে সেনাবাহিনীকে সেখানে দিনভর অবস্থান করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রের সামনে অথবা নির্দিষ্ট দূরত্বে ভোটার ছাড়া কাউকে দাঁড়াতেও দেওয়া হয়নি।

আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে সেনাসদস্যরা মূলত ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এবার জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় তিন বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মতো ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার (ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা) রয়েছে।

গতকাল দুপুর ১২টায় পুরান ঢাকার কসাইটুলীতে (ঢাকা–৭ আসনের এলাকা) কেন্দ্রগুলোর সামনে দেখা গেছে সেনাবাহিনীর টহল। টহল গাড়ি থেকে হ্যান্ডমাইকে বলা হচ্ছিল, ‘আপনারা সবাই নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা আপনাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে।’

টহলের পাশাপাশি কোথাও কোথাও দেখা গেছে কেন্দ্রের সামনে সেনাসদস্যদের অবস্থান করতে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা–১২ আসনের নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মানুষের জটলা ছিল। এ সময় সেনাবাহিনী এসে বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা মানুষদের সরিয়ে দেয়। পরে তাঁরা বিদ্যালয়ের বাইরে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছিল সেনাবাহিনী। বিকেল পাঁচটার দিকে তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ার বটমূলী হোমস বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়, সেনাবাহিনী কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দিচ্ছে। এ সময় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং পোলিং এজেন্ট ছাড়া অন্যদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের কেমব্রিজ স্কুল কেন্দ্রেও।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নজর

সারা দেশে এবার ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পুলিশের একজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য ছিলেন। এর পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তাঁরাও তাৎক্ষণিকভাবে অনেকগুলো শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নজির দেখিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে আরেকটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ভোটের বড় অংশীদার রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। নির্বাচনে তাদের সামগ্রিক আচরণ ছিল তুলনামূলক সংযত। কেন্দ্র দখল, জোরপূর্বক ভোট দেওয়া বা সংঘর্ষে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি বড় আকার নেয়নি। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও ‘সংঘাতে না জড়ানোর’ বার্তা ছিল স্পষ্ট।

ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল ইতিবাচক। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে, যা ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

আগের বিতর্কের কারণে এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ কাগজের ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই তাৎক্ষণিক গণনা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা এবং স্বাক্ষরিত কপি সরবরাহ—এসব ব্যবস্থা স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে।

ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যাতে রাতে বাক্স ভরার অভিযোগের সুযোগ না থাকে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু করা হয়। দুর্গম এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ কেন্দ্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিও ছিল নতুন সংযোজন।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, একক কোনো ফ্যাক্টর নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করেছে।

একটি নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক দক্ষতার সম্মিলিত পরীক্ষা। এবারের নির্বাচন সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলেই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে। সুষ্ঠু ভোটের চ্যালেঞ্জ ছিল, সমালোচনা ছিল, সংশয় ছিল—তবু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটি হয়েছে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর বড় ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহুলপ্রত্যাশিত গণভোটে বড় ব্যবধানে হ্যাঁ এগিয়ে রয়েছে। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে রাত ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২ হাজার কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়েছে। আর না ভোট ছিল ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে রাষ্ট্র সংস্কারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে দেশ। রাষ্ট্র হবে জবাবদিহিমূলক। ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচার হয়ে ওঠার পথ বন্ধ হবে।

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদ অনুসারে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা ২টি দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম ১৮০ দিন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসাবে কাজ করবেন। পরে নিয়মিত আইনসভার সদস্য হবেন। জুলাই সনদ অনুসারে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গঠন হবে। পুলিশের জন্য হবে আলাদা কমিশন। জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। সংসদে নারীর প্রতিনিধি বাড়বে, বিরোধী দল থেকে হবে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হবে। সংসদ-সদস্যরা অর্থবিল এবং সরকারের ওপর অনাস্থা বিল ছাড়া বাকি সব বিলে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে সুনির্দিষ্ট। একজন ব্যক্তি তার জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আসবে। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদে উচ্চ ও নিম্ন দুই কক্ষেরই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি লাগবে। আবার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ব্যতীত রাষ্ট্রপতি কোনো আসামির দণ্ড মওকুফ করতে পারবেন না। নাগরিকের মৌলিক অধিকারে তালিকা সম্প্রসারণ হবে। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বাড়বে।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ। এর মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটারদের পাঠানো ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এসব পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১ জন প্রবাসীর এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪ জন দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের ভোট।

কালের কণ্ঠ

‘ধানের শীষে জাগল নতুন স্বপ্ন’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রে ফিরল বাংলাদেশ। অপেক্ষার অবসানে উন্মুক্ত হলো নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ৬০ শতাংশের কাছাকাছি ভোটার ভোট দিয়েছেন। অনেক ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।

বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষ করেছেন অন্যরকম বাংলাদেশকে। নির্বাচনী আসনগুলো থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি ফলাফল অনুসারে এই নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা বেশির ভাগ আসনে জয়ী হয়ে দেশবাসীর স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গতকাল দুপুরে জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেলে জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ। রাত ৯টার দিকে নির্বাচন সচিবালয় সূত্র জানায়, কয়েকটি কেন্দ্র বাদে অন্য কেন্দ্রগুলোতে গড়ে ৬০.৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটের আগের রাতে নানা রকম আশঙ্কার কথা ছড়িয়ে পড়লেও ভোটের দিন বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনিয়ম, উত্তেজনা, হাতাহাতি ছাড়া দেশের ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ।

বেসরকারি ফলাফলে ২৯৯ আসনের মধ্য বিএনপি জোট ১৮২টিতে, জামায়াত জোট ৪১টিতে, অন্যান্য ছয়টিতে বিজয়ী

ঢাকা বিভাগ: ঢাকা জেলার ২০ আসনের মধ্যে গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত তিনটি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান ও ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন ঢাকার রিটার্নিং অফিসার।

গাজীপুর জেলায় যাঁরা বিজয়ী: গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির এস এম রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ আসনে জামায়াতের সালাহ উদ্দিন ও গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় যাঁরা বিজয়ী: মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মো. আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মো. কামরুজ্জামান রতন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিলেন নারী ও তরুণরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিয়েছেন তারা। রাজধানীসহ সারাদেশে কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

গতকাল ভোট দেওয়ার পর অনেক কেন্দ্রের। কাছে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। অনেকে সেলফি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। তাদের চোখেমুখে নতুন স্বপ্ন। কেউ কেউ জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গতকাল সকাল থেকেই ভোটারের বড় লাইন দেখা গেছে। সৈয়দ ইফাত আরা মীন নামে একজন বলেন, এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট। সকালে পরিবারসহ এসেছি। মনে হচ্ছে সত্যিই দেশের জন্য কিছু করলাম।

লালবাগ সরকারি শহীদ স্মৃতি কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন হাজার ১০৫ জন। দুপুর নাগাদ প্রায় এক হাজার ২০০ ভোট পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানজিলা হক বলেন, ভোট মানে শুধু প্রার্থী নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করা। তাই উচ্ছ্বাস তো থাকবেই।

নিকেতন সোসাইটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাইমিন খান জানান, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ২৫০ ভোট পড়েছে। নারী ভোটাররা স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় ভোট দেন।

বনশ্রীর মমতাজ আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে কয়েকজন তরুণী একসঙ্গে এসে ভোট দেন। ফিহাদ নামে একজন বলেন, 'আমরা তিন বন্ধু ঠিক করেছিলাম একসঙ্গে প্রথম ভোট দেব। এটা আমাদের কাছে এক ধরনের উদযাপন।'

মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তুলনামূলক নীরব পরিবেশ ছিল। গৃহকর্মী রোকসানা বেগম বলেন, 'কাজ শেষ করে ভোট দিতে এসেছি। ভোট তো আমাদের অধিকার।'

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের শেষ ৩০ মিনিটে নারীদের ভিড় দেখা গেছে। গৃহিণী সুমি আক্তার বলেন, 'সারাদিন সংসার সামলেছি। ভোট না দিলে মনে হতো দায়িত্ব পালন করিনি।'

এবারই প্রথম ভোট দিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাহিয়া মাহি। ঢাকা-৬ আসনের গেণ্ডারিয়ার আলমগঞ্জ লেনের বাসিন্দা তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গেণ্ডারিয়া থানা এলাকার বিপিণ রায় বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। তাঁর চোখেমুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ। ভোট দেওয়ার পর মাহি বলেন, 'এবার আমি ভোটার হয়েছি। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ বেশ ভালো লেগেছে। আমাদের পরিবারে মোট ৯ জন ভোটার। সবাই একসঙ্গে কেন্দ্রে এসেছি।

ঢাকা-৫ আসনে ডেমরার কামারগোপ এলাকার বাওয়ানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়া আলম। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান তিনি। ভোেট দেওয়ার পর সমকালকে বলেন, 'নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব। এতদিন শুধু খবর দেখেছি, আজ নিজেই অংশ নিতে পারলাম।'

ইত্তেফাক

‘নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে বিএনপি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উত্সবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহন শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ফলে আসন্ন সংসদে বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট হওয়া ২৯৯ আসনের মধ্যে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেড় শতাধিক আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে শতাধিক দলটি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোট এগিয়ে আছে ৩৫টির মতো আসন। এ নির্বাচনে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রায় একশ আসনে কেন্দ্রভিত্তিক আংশিক ফলাফল ঘোষণা হলেও এসব আসনে বিএনপি-জামায়াত দুই জোটের প্রার্থীর মধ্যেই শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে দুই জোটের পক্ষ থেকেই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় সরকার ও দেশের জনগনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা এসেছে।

এদিকে গণভোটে দেখা গেছে-যেসব আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে ‘হ্যা’ এগিয়ে আছে। এছাড়া কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেছে। এর আগে ভোটের আগেরদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সকল দল ও প্রার্থীদের জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাগুরা, নরসিংদীর সব আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, সাতক্ষীরার ৪টি আসনে জয়লাভ করেছে জামায়াত। এছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভালো করেছে। খুলনা, রংপুর, রাজশাহী বিভাগে ভালো করেছে জামায়াত-এনসিপি জোট। ঢাকা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর বিভাগে ভালো করেছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারম্যান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে জয়লাভ করেছে। জামায়াতের আমির ঢাকা-১৫ আসনে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে আছে।

নির্বাচনের ভোট পড়ার হার এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, এখনো সব ফলাফল পৌঁছেনি আমাদের কাছে। আমরা আশা করি, প্রায় ৬১ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে। কারণ, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে ৬০ শতাংশের কম ভোট হবে না বলে ধারণা করছি। ভোটগ্রহণ শেষে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক জোট বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই জয়ের ব্যপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিভিন্ন আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা হতে থাকলে পাল্লা ভারি হতে থাকে বিএনপি জোটের।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে দেড় শতাধিক আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১০০-র কাছাকাছি আসনে জয়ী হয়েছে বা এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিং, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি জোট এককভাবেই ভালো ফল করেছে। আর রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জামায়াত জোট ভালো ফল করেছে।

এদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক বগুড়া-৬ আসনেও জয় পেয়েছেন। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাঁকুরগাঁও-১ আসনে জয়ী হয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, গণআন্দোলনের স্মৃতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

বিএনপি জোটের নেতারা দাবি করছেন, এবারের ভোটে তারা ‘নীতিনির্ভর প্রচারণা’ চালিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি- এসব প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘মানুষ এবার দল নয়, জবাবদিহি চেয়েছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই ভোটের বাক্সে দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি জোটের এগিয়ে থাকা মানেই এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত নয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নও নতুন সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ- এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক, তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক, এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে- যেখানে ভোটের বাক্সে জনগণ তাদের প্রত্যাশা, ক্ষোভ ও স্বপ্ন একসঙ্গে প্রকাশ করেছে। নতুন সংসদের দায়িত্ব হবে সেই বার্তাকে সম্মান জানিয়ে বাস্তব পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

বণিক বার্তা

‘শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সারা দেশে কয়েকটি ছোট বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনে সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে, বেলা ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজারের কিছু বেশি কেন্দ্রে গড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোট পড়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় গণনা। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে।

এতে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো বিজয়ী হয়েছে ১৭০টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৪৫টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত ৪১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী তিন আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন পাঁচটি আসনে। বেসরকারি ফলাফলের এ চিত্র থেকে দেখা যায়, বিএনপি সংখাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে। তবে গণভোটের ফলাফল গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ শুরু হয়নি।

প্রায় ২০০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পরাজিত হয়েছেন দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর-৩ আসনে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) পেয়েছে একটি আসন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুসারে, গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দলটি থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কক্সবাজার-১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, চাঁদপুর-১ আসনে এহসানুল হক মিলন, কুমিল্লা-৩ আসনে শাহ মোফাজ্জল হোসেন, ঝিনাইদহ-১ আসনে আসাদুজ্জামান, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।

বেসরকারি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনে নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, পিরোজপুর-১ আসনে মাসুদ সাঈদী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শাহাজাহান চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ। জামায়াত জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদ।

খুলনা-৫ আসনে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম পরাজিত হয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা, কুমিল্লা-৭ আসনে আতিকুল আলম জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনে পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তারেকের হাতেই নতুন বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, দেড় বছর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের আগ্রহের কেন্দ্রে যে তিনটি বড় বিষয় রয়েছে, এর দুটি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মিত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর করার মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার। এ দুটি বিষয়ে জনতার সরাসরি রায় নিতে দেশব্যাপী গতকাল বৃহস্পতিবার একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সনদের ওপর গণভোট।

বেসরকারিভাবে রাত দেড়টা পর্যন্ত যেসব আসনের ফল ঘোষিত হয়েছে, তাতে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে অধিকাংশ আসনে এগিয়ে ছিল। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ১৯৪টি আসনের ফল অনুযায়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা ১৫২টি আসনে জয়ী ঘোষিত হন। জামায়াত-এনসিপির জোটের প্রার্থীরা জয়ী হন ৪০টি আসনে।

বিএনপির জয়ী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬), মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩), ড. আবদুল মঈন খান (নরসিংদী-২), এজেডএম জাহিদ হোসেন (দিনাজপুর-৬)।

বিএনপির জোট শরিকদের মধ্যে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) ও গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩) বিজয়ী হয়েছেন।

জামায়াতের জয়ী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আমির ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১) ও এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫) ও জোট নেতা মাওলানা মামুনুল হক পরাজিত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন