ওয়ান-ইলেভেনের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলছেন সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তা

সহযোগীদের খবর

ওয়ান-ইলেভেনের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলছেন সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তা

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

ওয়ান-ইলেভেনের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলছেন সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন দায়িত্ব নেননি? কোন প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ? কীভাবে তারা বঙ্গভবনে গেলেন? পরিকল্পনা করেছিলেন কে? গ্রেফতারের পর তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের জন্য দায়ী কারা? রিমান্ডে থাকা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং লে. জেনারেল শেখ মামুন খালেদ ও বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের কাছ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করছেন জিজ্ঞাসাবাদকারী গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গতকাল বিকালে ঢাকার পল্টন থানায় মানব পাচার আইনে করা মামলায় দ্বিতীয় দফার ১১ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল এজলাস থেকে নামার সময় নিজের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনকে উদ্দেশ করে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশপ্রেমের এই নমুনা, ‘আজ আমার হাতে হাতকড়া। আমি দেশের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি। সেই দেশপ্রেমের কারণেই আজ আমাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। মামলাগুলো হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।’

জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানিয়েছে, দুই সাবেক জেনারেলের কাছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনা-সমর্থিত সরকার গঠনের নেপথ্য ঘটনা, প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জেনারেল মাসুদ বলেন, তত্কালীন তিন বাহিনীর প্রধানসহ পাঁচ সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না; পরে একটি চা-চক্রে যোগ দেন।

জেনারেল মাসুদ জানিয়েছেন, এক-এগারোর সময় প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। পরে ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং শেখ হাসিনাকে তত্কালীন সরকারের নির্দেশে গ্রেফতারের কথা জানান তিনি। তবে এক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা অস্বীকার করেছেন। গ্রেফতার হওয়া দুই জেনারেলই এক-এগারোর পর তারেক রহমানকে নির্যাতনের বিষয়ে দায় অস্বীকার করেছেন। জেনারেল মাসুদ গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছেন, নির্যাতনের খবর পেয়ে পরদিন তিনি এ বিষয়ে তত্কালীন সেনাপ্রধানের সামনে প্রতিবাদ করেছিলেন।

তত্কালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার একপর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ১৩টি শর্ত দিয়েছিল। মুক্তির জন্য শেখ হাসিনা শর্তগুলো মেনে নিলেও খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক দুই জেনারেল। জেনারেল মাসুদ আরো জানিয়েছেন, পরবর্তী সরকার কীভাবে গঠন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য মেজর হুমায়ুন নামের এক কর্মকর্তা প্রতি বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাকে গুলশানে ডিজিএফআইয়ের একটি সেফ হাউসে নিয়ে যেতেন। তবে এমন আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এক-এগারোর সরকারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে জেনারেলরা বলেন, সব দেশেরই কিছু না কিছু ভূমিকা থাকে। তবে এ বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

কীভাবে ওয়ান ইলেভেন হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ উদ্দিন বলেছেন, তত্কালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব আমিনুল করিম ছিলেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের অনুগত। তার হস্তক্ষেপে তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। সে সময় বঙ্গভবনে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার বারী এবং লে. জেনারেল জাহাঙ্গীরসহ আরো অন্য কর্মকর্তারা। এরপর বঙ্গভবনে উপস্থিত হন লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা প্রবল চাপ প্রয়োগের পর জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি।

মানব পাচার আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আজ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালতের হাজতখানা থেকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে হাজির কর হয়। শুনানি শেষে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে আবার হাজতখানায় নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার। আদালতে তারা বলেন, এই আসামিরা সিন্ডিকেট করে ২ হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য করে। কমিশন না দিলে তারা কাজ পেত না। এই সিন্ডিকেটের সবাই পলাতক তিনি ছাড়া। বাকি আসামিদের তথ্য জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে দুই কৌঁসুলি আরো বলেন, এই আসামি এক-এগারোর কুশীলব ছিলেন। টাকার নেশায় তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে এই সিন্ডিকেট করেন। রিমান্ডে তিনি সব তথ্য দেননি। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য চার দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ মামলায় আসামিকে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের ফরোয়ার্ডিং দেখলাম, সেখানে তদন্তসংক্রান্ত অগ্রগতির কিছুই লেখেননি। আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পারছি, এটা মানব পাচার মামলা, কিন্তু এই তথ্য উদ্‌ঘাটন না করে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য তথ্য উদ্‌ঘাটনে ব্যস্ত। আত্মসাত্ করা টাকা উদ্ধার করা—এটা রিমান্ডে নেওয়ার গ্রাউন্ড হতে পারে না। এই লোকের বয়স ৭২ বছরের বেশি। মাইল্ড (মৃদু) স্ট্রোক হওয়ার কারণে ব্রেনে সার্জারি করা হয়েছে। হার্টে দুইটা রিং (স্টেন্ট) পরানো। তবু বারবার প্রেশার (চাপ দিয়ে) করে ওনাদের এক্সপেক্টেড (প্রত্যাশামতো) কথাগুলো পাচ্ছেন না। মনমতো তথ্য পাচ্ছেন না বলে রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।


প্রথম আলো

দুই দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ। এই সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়। ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) ৯৮ শিশু সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছে। আর হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে চারজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে প্রথম আলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলে জেনেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামে প্রতিবছর কতজন আক্রান্ত হয়, তার হিসাব নিয়মিত করা হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। দেশে হামে মৃত্যুর হার ছিল ১০ লাখে ১ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২০ দিনে ৮২৬ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬২৮। যদি ৮২৬ জনের হিসাব ধরে নেওয়া হয়, তবে সেই সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২০ সালে দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ৪১০ জন। পরের বছরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০-এর কম ছিল।

স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে হামের টিকা শুরুর পর এ রোগে এত মৃত্যুর রেকর্ড নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ গতকাল শনিবার বলেন, ‘আমি যতটুকু অনুমান করতে পারি, দেশে হামে এ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে এত রোগীর মৃত্যু হয়নি।’

হামে মৃত্যু, রেকর্ড যা বলছে

দেশে হামের সার্ভিল্যান্স বা নিরীক্ষণ হয় ডব্লিউএইচওর সহযোগিতায়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পক্ষ থেকে এ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

টিকা বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী জানান, এর আগে দেশে ২০১৬ সালে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। পরের বছর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১০ ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালেও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়।

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর যখন চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ সনদ বা হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না, তখন তার পরিবারের সদস্য বা নিকটজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণের পদ্ধতি হলো ভারবাল অটোপসি। তাজুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে বান্দরবানে ৭ শিশুর মৃত্যু হয় হামে। এরপর আর দেশে হামে এত মৃত্যুর রেকর্ড নেই।

২০০৬ সালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে হামে আক্রান্ত ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা নির্ণয়ে একটি জরিপ হয়। ডব্লিউএইচওর অর্থায়নে এ জরিপে নেতৃত্ব দেন আইইডিসিআরের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই সময় চারজনের মৃত্যুর তথ্য আমরা পাই।’

জরিপে যুক্ত ছিলেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি জানান, দেশব্যাপী দৈবচয়নের ভিত্তিতে করা ওই জরিপে মৃত্যুর সংখ্যা কম ছিল। সেই বিচারে বলা যায়, এবার হামে যত মানুষের মৃত্যু হলো, তা এ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

হামে সংক্রমণ: ২০০৪ থেকে এখন

হাম পরিস্থিতিকে বোঝার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা দেখা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ডব্লিউএইচওর দেওয়া বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ২০০৪ সালে দেশে ৯ হাজার ৭৪৩টি হাম রোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৯৩৪; যা ওই সময়ের বড় প্রাদুর্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। এরপর ২০০৬ সালে তা নেমে আসে ৬ হাজার ১৯২-এ। ২০০৭ সালে ২ হাজার ৯২৪, ২০০৮-এ ২ হাজার ৬৬০, ২০০৯-এ ৭১৮, আর ২০১০ সালে ৭৮৮। অর্থাৎ ২০০৪ থেকে ২০০৫-এর ভয়াবহ অবস্থার পর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত কমে আসে।

এরপরও বাংলাদেশ হামকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ডব্লিউএইচওর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১ সালে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা আবার লাফ দিয়ে ৫ হাজার ৬২৫-এ ওঠে। ২০১২ সালে তা ১ হাজার ৯৮৬-এ নেমে আসে। ২০১৩ সালে ২৩৭, ২০১৪ সালে ২৮৯, ২০১৫ সালে ২৪০—এই তিন বছর তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে আবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৭২। পর্যালোচনা বলছে, ২০০০ থেকে ২০১৬ সময়ে টিকাদান বাড়লেও ২০১৬ সালে আবার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘রাজনীতিতে কালো মেঘ!’। খবরে বলা হয়, তামাদি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণকর অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ দিতে সংসদে উপস্থাপন করছে না বিএনপি সরকার। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে-সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ অন্যতম। এসব বিষয় নিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরুর এক মাসের আগেই রাজপথে নেমেছে বিরোধী দল। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে আবারও কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, বিষয়টি রাজপথে চলে গেলে তা আর রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এটি কারও কাম্য নয়।

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সরকারি দল বিএনপি একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু ওই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করেনি। এর ফলে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপিত না হয়ে তামাদি হয়ে যাবে। এর সারকথা হলো-সংস্কার আর হচ্ছে না। অর্থাৎ সংস্কারের বিষয়ে আমরা ‘স্কয়ার জিরোতে’ চলে গেলাম। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকে সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, ১৮ মাস ধরে যে প্রস্তুতি নেওয়া হলো, তা আর বাস্তবায়ন হলো না। তার মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে একটা রেজিম (ক্ষমতা) পরিবর্তন হলো মাত্র। এটুকুই অর্জন। জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং আইনকানুনের সংস্কার খুব একটা হলো না। আলতাফ পারভেজ বলেন, অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেল, বিএনপি মৌলিক সংস্কারে আর রাজি হবে না। অর্থাৎ তারা সংস্কার করবে না। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের থেকে বেরিয়ে আসতে যে সংস্কার প্রয়োজন, তা আর হলো না। আমরা আবার ২০২৪ সালেই ফেরত গেলাম। মাঝখানে দুটি বছর নিষ্ফল চলে গেল।

জানতে চাইলে অধ্যাদেশ মূল্যায়নে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রধান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন যুগান্তরকে বলেন সংসদ সার্বভৌম। সংসদের সদস্যরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। ফলে তারা চাইলে কোনো অধ্যাদেশ রাখতে পারেন, আবার বাতিলও করতে পারেন। তবে আমরা কোনোটিই বাতিল করিনি। কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপস (অকার্যকর) হয়ে যাবে। এগুলো আবার বিল আকারে উত্থাপিত হবে। এই অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ না দেওয়ায় সংস্কার নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে কিনা জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কথা আসছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিচারক নিয়োগের যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সেখানে আইনজীবীদের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনসহ বেশ কিছু জায়গায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধি নেই। আরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ফলে কোনো কিছুই বাদ দেয়নি। দুর্বলতাগুলো সংশোধন করে পরবর্তীতে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংসদ কার্যকর হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে ওই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দিতে হয়। সেই আইনে রূপ দেওয়া সম্ভব না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। রাষ্ট্র সংস্কারে গত দেড় বছরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে বিল আকারে পাশ না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৩ সদস্যের এ বিশেষ কমিটির ১০ জনই বিএনপির এবং বাকি তিনজন জামায়াতের ইসলামীর সংসদ-সদস্য। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। কমিটি ১ এপ্রিল সুপারিশ জমা দিয়েছে। এতে ১৩৩টির মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাশ করতে বলা হয়েছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যে ১৫টি অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হচ্ছে, এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশও রয়েছে। তবে যেসব অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন করা হচ্ছে, তার সবগুলোতেই নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতের তিন সদস্য।

কালের কণ্ঠ

কঠিন সময়ে বড় বাজেট’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জ্বালানিসংকটের আঁচ লাগছে প্রবৃদ্ধিতে। এমন কঠিন সময়ে আসছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। ভর্তুকি, উন্নয়ন ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান দায়দেনার চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হতে পারে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাজেট আলোচনা শুরু হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেখানে আয় বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ, সেখানে বড় অঙ্কের বাজেটে করের বোঝা বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। সেটি হলে চাপ বাড়বে ব্যবসায়ী-ভোক্তার।

বাজেটের সম্ভাব্য আকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে আট লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য পাঁচ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৮.৪ শতাংশ) এবং এনবিআর থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

তবে বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী এই লক্ষ্য পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় দুই লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন। স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সংকটে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা’। খবরে বলা হয়, সাত্তার হোসেন পেশায় গাড়িচালক। গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীর সরিকল এলাকায়। ঢাকায় গণপূর্তের এক ঠিকাদারের মাইক্রোবাস চালান তিনি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশন থেকে অকটেন নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। শাহবাগ মোড় ঘুরে মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যখন তাঁর গাড়ি পৌঁছে, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা পেরিয়ো গেছে। হতাশা আর ক্লান্তি নিয়ে তিনি বললেন, পাম্প পর্যন্ত পৌঁছতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যাবে। এভাবে তেল নিতে গেলে আর জীবন থাকে না।

শুধু সাত্তার হোসেনই নন, সেখানে যারা জ্বালানি তেল নিতে এসেছিলেন সবার কমবেশি একই পরিস্থিতি। একেকজনের তেল নিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। কর্মদিবসের প্রায় পুরো সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানি নিতে। এ কারণে অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে দিয়েছেন গাড়ির মালিক। আবার তেল নিতে বাড়তি সময় খরচ হওয়ায় ঘুম ও বিশ্রামের সময় কমে গেছে অনেকের। আর যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের সংকট আরও বেশি। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বাড়তি সময় রাইড শেয়ার করতে হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন কয়েকজন চালক।

রাজধানীর আরও কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে লাইনে থাকা চালকদের সঙ্গে কথা বলে প্রায় একই রকম বর্ণনা পাওয়া গেল। জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। কোনো কিছুর সময়সূচি ঠিক থাকছে না। মেঘনা ফিলিং স্টেশনের লাইনে থাকা রামপুরার মোহাম্মদ সোহেল বাংলাদেশ মেডিকেল জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় চরম ভোগান্তি চলছে। জ্বালানি তেলের লাইনেই সব সময় চলে যাচ্ছে। কোথাও এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন, কোথাও উত্তেজনা, কোথাও সংঘর্ষ- সব মিলিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ। একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীতেও। ঢাকায় ছুটির দিনেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমছে না।

কিশোরগঞ্জ শহরতলিতে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের হিমু ফিলিং স্টেশনে দেখা গেল প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসকের গাড়ি চালান। তিনি বলেন, লাইনে দাঁড়ানোর পর গাড়ি রেখে কোথাও যেতে পারিনি। কারণ, এক মিনিট পরপর সামনের দিকে দু-তিন গজ এগোতে হয়। পাশের ফুটপাতের দোকানের কলা-রুটি দিয়ে দুপুরের খাবার সেরেছি। স্যার নেমে যাওয়ার পর বলে দিয়েছেন 'তেল নিয়ে আসো'। স্যারের ছুটির সময় হয়ে গেছে। এখনও পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের গোপালদী বাজারের পাশে একটি দোকানে ২০০ টাকা লিটার অকটেন বিক্রি করতে দেখেছেন। তাঁর ধারণা, পাম্পের সঙ্গে আতাত করে এই তেল বাইরে পাঠিয়ে কিছু অসাধু লোক ফায়দা লুটছে।

প্রাইভেটকারচালক জাকির হোসেন বলেন, লাইনে দাঁড়ানোর পর থেকে পাম্প পর্যন্ত পৌছাতে অন্তত ৩০০ বার স্টার্ট দেওয়া লাগে। কারণ, একটু এগিয়ে বারবার স্টার্ট বন্ধ করতে হয়। এতেই তেল আরও চলে যায়। আর কতদিন এ রকম জ্বালানি সংকট থাকবে- সে প্রশ্ন করেন তিনি।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বাড়তে পারে লিটারে ১০ টাকা’। খবরে বলা হয়, আইএমএফ’র ঋণের পরবর্তী কিস্তিু পেতে সীমিত পর্যায়ে হলেও তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে লিটার প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। চলতি মাসের ১৩ তারিখে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বে দেবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বৈঠকে নির্ধারিত হবে আইএমএফ ঋণের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি কবে নাগাদ ছাড় করা হবে। তাই বৈঠকের আগেই শর্ত অনুযায়ী তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চলতি এপ্রিল মাসে তেলের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণের কিস্তি দ্রুত ছাড় করা এবং বর্ধিত সহায়তা পাওয়ার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়ানো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইএমএফ’র বৈঠকের বিষয়ে গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর বাসায় এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চমূল্যে এনে তেল ও গ্যাস কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা চিন্তার বিষয়। তাই শিগগিরই তেলের দামের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে কোনো আপস করার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জ্বালানি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলেই দ্রুতই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় (বাড়ানো) করা হবে। সেটি চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন ঘটতে পারে বলে সূত্র জানায়। এর আগে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন জ্বালানিখাতে সরকারকে ১৬৭ কোটি টাকা ভতুর্কি দিতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগসূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ সে শর্ত মেনেই তেলের দাম সমন্বয় করে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সে শর্ত পরিপালন করা হয়নি। এ বিষয়ে আইএমএফ’র পক্ষ থেকে অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বর্তমান সরকার মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে দায়িত্বে আছে। এখন তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ জনগণের মনে এক বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পরবে। তাই এ মুহূর্তে তারা তেলের দাম সমন্বয় করতে চায় না। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারের তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আইএমএফ’র কিস্তিু অর্থ দ্রুত পাওয়ার আশায় সরকারকে অনেক বাধ্য হয়ে ঘাটতি মোকাবেলায় তেলের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

বণিক বার্তা

হামের সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি কি বাংলাদেশে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্বজুড়েই বেড়েছে হামের সংক্রমণ। ইউরোপ থেকে আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া—প্রায় সব মহাদেশেই অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট ৩০ হাজার ৫৫৭ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। বেশির ভাগ অঞ্চল থেকে যদিও মার্চের পূর্ণ তথ্য এখনো জমা পড়েনি।

ডব্লিউএইচওর হিসাবে দেখা গেছে, অঞ্চলভেদে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আমেরিকা অঞ্চলে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ৮ হাজার ৮১৪ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকা অঞ্চলে ৭ হাজার ১৯৩ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোগটি শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৭২৬ শিশুর দেহে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) হিসাব মতে, চলতি বছরে ২৬ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৫৭৫ নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মেক্সিকোয় ৭ হাজার ৪০০-এর বেশি নিশ্চিত সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে।

প্যান-আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে, বলিভিয়া, কানাডা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো ও উরুগুয়ে—এ সাত দেশে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হামের সংক্রমণ ৪৩ গুণ বেড়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহামেও। ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও রোমানিয়ায়ও নতুন সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

বিপরীতে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে ৬ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৮২৬ শিশুর দেহে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো হামে আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে হামে মৃতের সংখ্যা কি বাংলাদেশই সর্বোচ্চ? ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে যদিও দেশভিত্তিক তুলনামূলক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে মোট শনাক্ত ৬ হাজার ৭২৬। আর বাংলাদেশে কেবল মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৬ শিশুকে। তাছাড়া লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ভারত বা ইউরোপে হামে আক্রান্তের কথা জানা গেলেও মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। সেখানে বাংলাদেশে এ সংখ্যা শতাধিক। সব মিলিয়ে এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এ মুহূর্তে হামের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের গতকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশে গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে এবং এ রোগের লক্ষণ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ছয় শিশুর। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হামে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি চার শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল হামের উপসর্গ নিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১৬ শিশু এবং রোগটির উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। রোগটিতে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংস্কার প্রচেষ্টা: সরকারের উদ্যোগে সন্দেহে বিরোধীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল উত্তপ্ত। বিরোধী দল অভিযোগ করছে, সরকার ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা আরও বলছে, জুলাই চেতনার বিপরীতে গিয়ে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপ দেশের কাঠামোগত পরিবর্তনকে বিলম্বিত করছে বলে মনে করছে বিরোধীরা।

তবে বিএনপি বারবার বলছে, তারা সংস্কারের বিপক্ষে নয় এবং জুলাই সনদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি পালন করবে। তাদের নিজেদের ৩১ দফার কিছু প্রতিশ্রুতি জুলাই সনদেও অন্তর্ভুক্ত আছে।

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল হবিগঞ্জে এক সমাবেশে বলেছেন, ‘কিছু রাজনৈতিক মহল আমাদের “সংস্কার-বিরোধী” হিসেবে উপস্থাপন করছে। বিএনপি বরাবরই জুলাই চেতনার পক্ষে এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিশ্রুতি অটল।’

অধ্যাদেশ বিষয়ে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদনে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধনীসহ সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ পরে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও ৯ এপ্রিলের মধ্যে বিল পাস না হলে এই অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ, সরকার ধীরগতি অবলম্বন করছে এবং দেশের কাঠামোগত সংস্কারের মূল প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছে। এই ধীরগতি ক্ষমতার একক নিয়ন্ত্রণ রক্ষার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

যদিও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল ঝিনাইদহে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোট বাতিল হওয়ার বা না-হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। বিএনপি মনেপ্রাণে জুলাই চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলছে।’

রাজপথে আন্দোলনের শুরুর প্রেক্ষাপট এসেছে বুধবার সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর। পরদিন বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বৈঠক করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তারা।

সমাবেশে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলে ফলাফল সরকার জন্য সুখকর হবে না। সময়মতো গণভোটের রায় মেনে চললে দেশের চলমান সমস্যা সমাধান হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সরকার গঠনের মাত্র এক-দুই মাস পেরিয়েছে। এত প্রশ্ন ওঠার কোনো কারণ নেই। দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার সময়মতো করা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সমাবেশে বলেন, গণভোট কার্যকর করলে সংবিধান অনুযায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। তবে সরকারের অনিচ্ছা একক কর্তৃত্ব রক্ষার ইঙ্গিত দেয়। তারা মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন চায় না, তাই গণভোটের রায় কার্যকর হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অধ্যাদেশগুলোতে কিছু অসংগতি থাকতে পারে। তবে তারা আশাবাদী যে সরকার জুলাই সনদকে সামনে রেখে সমস্যাগুলো সমাধান করবে। যদি অধ্যাদেশ বাতিল হয়, পরে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করে আইন হিসেবে রূপ দেওয়া হবে।

দেশ রূপান্তর

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুদ্ধ যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে দেশে ততই দীর্ঘ হচ্ছে তেলের লাইন। শুধু জ্বালানি তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ আর চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ফলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার নতুন নতুন উৎস থেকে চড়া দামে জ্বালানি তেল আমদানি করে গত এক মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আগামীতে সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও জ্বালানি নিয়ে তীব্র সংকট হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এই সংকট দূর করতে বিকল্প দেশের দ্বারস্থ হয়েছে সরকার। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কারণ নানান কারণে সময়মতো জ্বালানি আমদানি করা যাচ্ছে না। আবার জ্বালানি আমদানিতে যে বাড়তি অর্থের দরকার তার সংস্থান করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে অবৈধ মজুদও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেল-জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছে না জ্বালানি তেলের কালোবাজারি।

দেশের জ্বালানি চাহিদার ৬৫-৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এর বেশির ভাগ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। যার বড় অংশ আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিও ঝুঁকিতে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিকল্প উৎস থেকে তেল-গ্যাস আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। শুরুতে সরবরাহকারী অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি মিলেছে খুব কম। একই ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রেও।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটেও দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে অতীতের সেই অভিজ্ঞতা এবারও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তুলেছে।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার সরকার তা নিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লেও সরকার ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি করেনি।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও বড় সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন