বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল দলে জাতীয় কাউন্সিল৷ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের রেগুলার কাজকর্ম চালু রাখার জন্য আজকে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির মিটিং ডেকেছিলেন। মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে, আমাদের এই যে ৪৭ দিনের কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন এবং এই কাজগুলো সম্পর্কে দলের মতামত। অর্থাৎ স্থায়ী কমিটির মতামত তিনি নিয়েছেন। সেই সঙ্গে অনেক সদস্য তাদের কিছু কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরো বিস্তৃত করার জন্য, ভবিষ্যতে কিভাবে আমরা দ্রুত দলকে কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি- সেবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পুরো বিষয়টাই সাংগঠনিক ছিল। খুব দ্রুতই আমরা চেষ্টা করবো, যতদ্রুত পারা যায়- কাউন্সিলের দিকে যাওয়ার জন্য। এটা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এটাই ছিল মূল আলোচনা।
কোরবানির ঈদের আগেই কাউন্সির হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগের হওয়ার সম্ভাবনার প্রশ্নই উঠতে পারে না৷ এটাকে ঠিক করতে আমাদের মিনিমাম কয়েকমাস সময় লাগবে।
বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও আরেক প্রশ্নের জবাবে জানান মির্জা ফখরুল।
ওদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। মূলত রিভিউ হয়েছে। সরকারের এই অল্প সময়ের কর্মকাণ্ডকে ভালো হিসেবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে৷ এছাড়া অনেক কিছু বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা৷
বিএনপির সরকার গঠনের পর যেসব ইস্যু এসেছে, তা নিয়েও বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
জ্বালানি তেল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেবিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বলা হয়, বিএনপির অবস্থা পরিষ্কার, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সেটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে৷ বৈঠকে বলা হয়, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। কিন্তু কিছু নোট অফ ডিসেন্ট ছিল বিএনপির। তার অর্থ এইটা না যে, এই নোট অফ ডিসেন্টও বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চ্যুয়ালি), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চ্যুয়ালি), ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
