ফ্যাসিস্ট আমলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০টি দেশকে চিহ্নিত করে ওইসব দেশ থেকে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বিকাল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত এই প্রশ্নোত্তর কালপর্বে তারেক রহমান সংসদ সদস্যের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তারেক রহমান এই প্রথম প্রশ্নোত্তর কালপর্বে অংশ নেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচারকৃত এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী ৪ বছরে ৪ কোটি পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস?্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
নারীদের কেন এই কার্ড দেয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সহায়তা দেওয়া হলেও দারিদ্র্যের হার কাঙ্ক্ষিত রূপে হ্রাস পায়নি এবং জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। দেখা গেছে, কোনো পরিবারের মাকে এ জাতীয় সহায়তা দেয়া হলে সেটি পরিবারের শিশুসহ অন্যান্য সদস্যের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যবহৃত হয় এবং অর্থের অপচয় বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের সুযোগ হ্রাস পায়। তিনি বলেন, এ কারণে ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে দেয়া হবে। এতে একদিকে সহায়তাটি সরাসরি পরিবারের কল্যাণে ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি নারী প্রধানের নামে হওয়ায় সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এতে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি তথা পরিবার ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।
ফ্যামিলি কার্ড সমপ্রসারণের হালনাগাদ তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ই মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাকি ৩ মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সংসদে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী: সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ইশতেহার বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি। সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ সব তথ্য জানান।
সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে।
কৃষিঋণ মওকুফ: কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এটি পাইলটিং করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক একাউন্টে সম্মানী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৯৫ জন ইমাম, ২ হাজার ৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২ হাজার ৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত এবং বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষ রয়েছেন।
ই-হেল্থ কার্ড ও ২ লাখ স্কুল ড্রেস: খুলনা জেলায় পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ২৫ লাখ ‘ই-হেল্থ কার্ড’ প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
২০ হাজার কি.মি. খাল খনন ও বনায়ন: আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ই মার্চ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন করেছে। এছাড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর’র মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। পাশাপাশি, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তি ও ভাষা দক্ষতা: কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে এবং ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইটালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খেলার মাঠ ও ক্রীড়া ভাতা: সারা দেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
পেপ্যাল চালু ও হাইটেক পার্ক: হাইটেক বা সফ্টওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি: ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির আগেই ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি’র ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান সহজ করা হয়েছে।
বিদেশে পাচারকারীদের শাস্তি প্রচলিত আইনেই হবে: বিদেশে পাচারকারীদের শাস্তি প্রচলিত আইনেই হবে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার। আমরা অতীতে দেখেছি, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন রকমের ইচ্ছা-আগ্রহের কারণে দেশের আইন-কানুন-নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে খুশি যে কোনো জায়গা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, যার কাছ থেকে যেরকম মনে হয়েছে জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বর্তমান সরকার দেশের প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে চায় এবং আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায় যাতে করে কোনো মানুষ ন্যায্য আইন থেকে বঞ্চিত না হতে পারে। সে কারণেই আইনগতভাবে আমরা সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করবো। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি, যারা এদেশের জনগণের অর্থ তসরুপ করেছে বা এদেশের জনগণের অর্থ পাচার করেছে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অর্থ পাচারকারীদের কোনো তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের (বিদেশে অর্থ পাচারের) সঙ্গে যারা জড়িত, এর তালিকা করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এই তালিকা করার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের, তারা এটি করছে।

বরকত
২ মাস আগেফ্যাসিস্ট আমলে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে : তারা ফেরত না দিলে একটাকা ফেরত আসবে না,যারা দেশ থেকে পলাই গেছে তারা খরচ মিটাইতেছে পাচার কৃত টাকা দিয়ে,দেশ থেকে কোনো গ্রুপ টাকা আনার জন্য পাঠাবেন না এরা যেটা খরচ করবে সেটাও পানিতে পড়বে,আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য যাওয়া লাগে না!এসি চালানো শিখতে সরকারি ৮ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র গেছেন ফলাফল শূন্য '0'বিনিয়োগ আকর্ষণে চীনে অফিস খুলবে বিডা পুরা অর্থটা পানিতে পড়বে।বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি জানে কোন দেশে বিনিয়োগ করা যায়।বাংলাদেশের দূতাবাস এবং বিমানবন্দরে গেলেই তারা বুঝতে পারে দেশ কেমন!