গর্ভাবস্থা হলো একটি পরিবর্তনশীল সময়কাল এ সময়ে নারীদের দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে মুখো গহবরের একটি সমস্যা হল গর্ভকালীন প্রদাহ বা প্রেগনেন্সি জিনজিভাইটিস, যার লক্ষণ সাধারণত দ্বিতীয় থেকে অষ্টম মাসের মধ্য প্রকট ভাবে দেখা দেয়।
কারণ
১. সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।গর্ভকালীন সময়ে ইসট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যা মাড়ির টিস্যু কে সংবেদনশীল করে তোলে।
২. তাছাড়া এ সময়ে চিনিযুক্ত ও টকস্বাদ যুক্ত খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায় যার ফলশ্রুতিতে দাঁতে প্ল্যাক জমে মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
৩. এমনকি দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পুষ্টিহীনতা ও এর জন্য দায়ী
লক্ষণ
১. মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যায়
২. মাড়ি নরম হয়ে দাঁত থেকে আলগা হয়ে যায়
৩. ব্রাশ করার সময় ও শক্ত খাবার খাওয়ার সময় রক্ত পড়ে
৪. মুখে দুর্গন্ধ হয় ও ব্যাথা আরম্ভ হয়
জটিলতা
১. এ রোগের জটিলতা মা ও গর্ভের শিশু উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।
২. মায়ের ক্ষেত্রে পেরিয়ডোন্টাল রোগ হয়ে দাঁত ও মুখের হাড় ক্ষয় করতে পারে ও পায়োজেনিক গ্রানুলোমা সৃষ্টি করে।
৩. গুরুতর ক্ষেত্রে সময়ের পূর্বেই বাচ্চার অকাল জন্ম হতে পারে।
৪. কম ওজনের বাচ্চা প্রসবের ঝুকি থাকে এবং বাচ্চা পুষ্টিহীনতায় ভোগে।
৫. দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়|
চিকিৎসা
১. এই রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসক সাধারণত স্কেলিং, পলিশিং ও রুট প্ল্যানিং নামক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
২. পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় উপযোগী নিরাপদ ওষুধ ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
প্রতিরোধ
গর্ভকালীন সময়ে যাতে দাঁত ও মুখের সাস্থ্য ভালো রাখা যায় সেজন্য অবশ্যই কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
১. চিনিযুক্ত ও আঠালো খাবার কম খাওয়া
২. দুইবেলা সঠিক নিয়মে দাঁত ও জিব্বা পরিষ্কার রাখা
৩. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
৪. তামাক ও অ্যালকোহল পরিহার করা
৫. গর্ভধারণের আগে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক দাঁত ও মুখের চেকআপ করা।
৬. গর্ভকালীন সময়ে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
লেখক
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী
ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী
চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট, (আলোক হেলথকেয়ার লি.), মিরপুর-১০
হটলাইন- ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯
