খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দলে যোগ না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ক্রীড়া কার্ড উদ্বোধন

খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দলে যোগ না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’- ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে খেলাধুলার ইশতেহারে এমন ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইশতেহারে বলা হয়েছিল বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। দায়িত্ব নেয়ার পর বার বার এই কথাই বলে আসছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করলেন। এদিন ১২৯ জন খেলোয়াড়কে বেতন-ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ক্রিকেট-ফুটবলের পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, ওয়েটলিফটিং, সাঁতার, প্যারা সুইমিং, প্যারা অ্যাথলেটিকস, হুইলচেয়ার বাস্কেটবলসহ নানা খেলায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ভালো করছে। শুধু ক্রিকেট বা ফুটবল নয়, এই খেলাগুলোকেও সামনে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার আহ্বান জানান।

ক্রিকেট-ফুটবল বাদে ভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদরা দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে কখনো থোক বরাদ্দ, কিংবা প্রধানমন্ত্রীর অনুদান ছাড়া সেই অর্থে তেমন আর্থিক সুবিধা পান না। সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ‘স্পোর্টস প্রফেশনালিজম’ গড়ে ওঠেনি। খেলাধুলা করেও আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকা যায়, স্পোর্টস ইভেন্ট ডিসিপ্লিন পেশা হিসেবে নেয়া সম্ভব তা এতকাল ছিল ধারণার বাইরে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের ক্রীড়াবিদরা সেই কাক্সিক্ষত আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পেলেন। ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা ব্যায়ামের অংশ নয়; বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পৃথিবী যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিশ্চয়ই বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে পারে না; আমরা ইনশাআল্লাহ্ পিছিয়ে থাকবো না।’ শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যেমন অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক হিসেবে পড়তে হয়, আমরা চাচ্ছি, শিশু যে খেলাটিই পছন্দ করুক, সেটি তাকে খেলতে হবে। সেটাতে তাকে দক্ষ হতে হবে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আমরা খেলাধুলাকেও আবশ্যিক করবো।’ প্রধানমন্ত্রী তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে আইনস্টাইনের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।’ দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০শে এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। বক্তৃতা শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধÑ পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন-ভাতার আওতায় আনবে মন্ত্রণালয়। বেতন-ভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধনের পরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।



ZIA

২ মাস আগে

বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রী একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন।???????

Mohammed Alamgir.

২ মাস আগে

রাজনীতি কি আসলেই কদর্য ?
যাহাতে যুক্ত হওয়া ক্রীড়াবিদ গনের অনুচিত।

মাহমুদুল হাছান

২ মাস আগে

ধন্যবাদ

মাহমুদুল হাছান

২ মাস আগে

অনেক অনেক ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন