রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে ৬ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী এ আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি আদালতকে বলেন, আফজাল নাছের ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের আমলে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীদের অত্যাচার করেছিল। বিশেষ করে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিশেষ করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দমন ও নির্যাতন করেছেন। আব্দুল আউয়াল মিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মোসাদ্দেক আলী ফালুকে মিথ্যাচার করে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই টিমে ছিলেন আফজাল নাছের। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, অত্যাচার করেও তার জিঘাংসা শেষ হয়নি। খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা যেভাবে মামলার পর মামলা দিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল, মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তবে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি (নাছের) খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে দেননি। সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হয়েও তিনি নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তার সাতদিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলায় আসামির নাম ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। বিগত দিনে যদি তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ তাকে পুরস্কৃত করতো। কিন্তু তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রুটি-রুজির জন্য ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি করেন। সাতদিনের রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত ৬ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে রোববার ১২টা ৩৫ মিনিটে পল্লবী থানার ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪০) বেলা ৩টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করেন। এ সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ সন্ত্রাসী আফজাল নাছেরের নির্দেশে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০শে জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শ্যামলীতে সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১শে জুলাই দেলোয়ার হোসেন মারা যান। ওই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার মামলাটি করে। রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ৪ঠা জুলাই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইতে দায়িত্ব পালন করেন।
