সংসদে জ্বালানি নিয়ে অভিযোগ

সংকট নেই বললেন মন্ত্রী

সংসদে জ্বালানি নিয়ে অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেও বিরোধী দলের এমপিরা জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেন। পেট্রোল পাম্প ঘুরেও নিজের গাড়ির জন্য তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তার এ অভিযোগ সমর্থন করেন অন্য আরেকজন সংসদ সদস্য। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, অতিরিক্ত মজুত প্রবণতার কারণেই এই কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক বসে বেলা সাড়ে ৩টায়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৈঠক শেষ হয় রাত ৮টা ১৯ মিনিটে। এর মধ্যে নামাজের জন্য ১ ঘণ্টা বিরতি দেয়া হয়। আজ বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত ছিলেন প্রধামন্ত্রীর মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

দেশে জ্বালানি ঘাটতি নেই, চাহিদার চেয়ে বেশি প্রস্তুতি রয়েছে:
দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও সরকারের বেশি প্রস্তুতি ও মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার কারণেই মূলত বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।

জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে এই বিবৃতি দেয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা, দৈনন্দিন জীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুত ও অগ্রিম প্রস্তুতির বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করেছি।
আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ চাপের মুখে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দিন (১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। আজ (৩০শে মার্চ) মজুত আছে ২ লাখ ১৮ হাজার টন। এই ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। বিপুল সরবরাহের পরও মজুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে, সরকার আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সুদৃঢ় রেখেছে।
তিনি জানান, গত বছর মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন, অকটেন ১ হাজার ২০০ এবং পেট্রোল ১ হাজার ৪০০ টন। অথচ চলতি বছরের ১ থেকে ২৯শে মার্চ পর্যন্ত অকটেন বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন (দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৮ টন)। তেজগাঁওয়ের একটি পরিচিত পেট্রোল পাম্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে গত বছরের চেয়ে অকটেন বিক্রি প্রায় ৯৬ শতাংশ বেড়েছে।

তেহরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরানো হয়েছে: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে তিনি দেশে এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন। অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশে ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কী ভূমিকা পালন করছেন, তা জানতে চান তিনি। এ ছাড়া জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব জুড়ে ঘুরে বেড়ালেও দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে তিনি কী করছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। এ সময় স্পিকার তাকে কেবল একটি প্রশ্ন করার নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন।

জবাবে সংসদ সদস্যকে অনেক নির্যাতনের পর সংসদে আসায় অভিনন্দন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার, ল’ইয়ার মানুষ। উনার সম্পূরক প্রশ্নের অর্থ বোঝা উচিত, কারণ মূল প্রশ্নের সঙ্গে এই সম্পূরক প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক ছিল না।
এরপর জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা না না বলে প্রতিবাদ জানান।
পরে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য যেসব উৎস থেকে আমরা জ্বালানি আনতে পারি, সে বিষয়ে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ্ আমরা সফল হবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন