মার্চেই হামে ২২ শিশুর মৃত্যু

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগীর চাপ

মার্চেই হামে ২২ শিশুর মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। বড়দের চেয়ে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে বিভিন্ন বয়সী শিশুরা। কেউ কেউ শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ রোগের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর ঘটনায় ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি করা হচ্ছে হাম আক্রান্তদের। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরের শুধু মার্চ মাসেই ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হামের টিকা দেয়ায় ঘাটতি রয়েছে। এই ব্যাপারে বাবা-মাকে সতেচন হতে হবে। হামের ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা ও মনোযোগ না থাকায় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটি সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আলাদা করে এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে হবে।

হাসপাতালে সরজমিন দেখা যায়, রোগীর চাপ অনেক বেশি। হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন ও ভিড় ধরে টিকিট সংগ্রহ করছেন অনেকে। হাসপাতালটিতে শয্যা খালি নেই পাশাপাশি সংকট রয়েছে লোকবলের। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। শয্যা না থাকায় অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। ঈদের পর থেকে ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলা থেকে রোগী আসছে। রোগীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮ বছরের শিশু জেসিকা। তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ঈদের পরের দিন থেকে আমার সন্তানের এই সমস্যা দেখা যায়। প্রথমে জ্বর ছিল, তিন চার দিন পর থেকে শরীরে এমন র‌্যাশ উঠতে শুরু করে। এমন হতে হতে পুরো শরীর ভরে যায়। মেয়ে ঠিকমতো খেতে পারছে না। ইতি বেগম বলেন, ৮ দিন ধরে আমার ১৩ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে এখানে আছি। এখন ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বেশি, র‌্যাশ কিছুটা কমের দিকে।

৫ দিন ধরে ভর্তি রয়েছে ৯ মাস বয়সী শিশু জুবায়ের। তার মা ঝুমুর বলেন, আমাদের বাড়ি টঙ্গীতে। ছেলের প্রথমে জ্বর আসে। তাকে নিয়ে প্রথমে উত্তরার মনসুর আলী হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। এরপর এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আসার পরে বলেছে নিউমোনিয়া হয়েছে। বাইরে মেঝেতে বিছানা দিয়েছে, ভেতরে জায়গা পাইনি। পটুয়াখালী থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছেন কাউসার। তিনি বলেন, ৮ দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি। এর আগে অনেকগুলো হাসপাতালে দেখিয়েছি।

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. এ. আর. এম সাখাওয়াত হোসেন খান মানবজমিনকে বলেন, হঠাৎ হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। রোগীদের নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সোমবার ৯ জন রোগী এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ জন। চলতি বছরে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। মার্চেই মৃত্যু ২২ শিশুর। ৬০২ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। জানুয়ারি মাসে খুব একটা রোগী ছিল না। ফেব্রুয়ারিতে ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে। মার্চ থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বেশির ভাগ রোগীর বয়স ২ বছরের নিচে, ৬ মাস থেকে দেড় বছরের মধ্যে। তিনি বলেন, যখন রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে যায় তখন স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বেশির ভাগই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখানে এসেছে। কোনো শিশুর যদি জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং ৩-৪ দিনের মাথায় যদি শরীরে র‌্যাশ ওঠে তবে সেই শিশুকে অবশ্যই অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। এটি ভাইরাল এবং ছোঁয়াচে রোগ। এবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণ টিকাদান কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর পর পর সরকার থেকে একটা বুস্টার ডোজ দেয়া হয় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত। এটি যারা পেয়েছে তারা আরও বেশি শক্তিশালী হবে আর যারা পাইনি তারা দুর্বল হচ্ছে। এটি ২০২০ সালে শেষ দেয়া হয়েছিল। শিশুদের বাবা-মা অনেক সময় টিকা দেয়ার কথা ভুলে যায়। সঠিক সময়ে টিকা দেয়া খুব জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন