জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে গতকাল উত্তপ্ত ছিল জাতীয় সংসদ। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে পরে আগামীকাল মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে এ সময় নোটিশ সংশোধনের ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে রুলিং দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমে চলে যান স্পিকার।
অধিবেশনের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, আগে সংসদ মুলতবি করে তাদের প্রস্তাবিত বিষয়ে আলোচনায় যাওয়ার জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শোনেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় সরকারি দলের এমপিদের বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা হইচই এবং টেবিল চাপড়ে তার বিরোধিতা করেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। নামাজের জন্য দু’দফা ৫০ মিনিট বিরতি দেয়া হয়। আজ বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য এবং তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপের বক্তব্য শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়ালে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা আমরা প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষ করি, তারপরে যদি দয়া করে দাঁড়াতেন। তারপরে স্পিকার ঘোষণা করেন, আজকে যে প্রশ্নোত্তরপর্ব তার সমাপ্তি ঘোষণা করছি। পরে চিফ হুইপ বলেন, আমি সকল সংসদ সদস্যদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, সকল সংসদ সদস্যের যে অধিকারটা তা হলো প্রশ্নোত্তর এবং ৭১ বিধি। কাজেই আমরা সকল বিষয় আলোচনা করবো, প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরে। এটাই বিগত দিনে হয়ে আসছে। বিরোধী দল কিংবা অন্য সদস্যদের বক্তব্য থাকে, ৭১ বিধি শেষ করার পরেই দয়া করে আপনি (ডেপুটি স্পিকার) তাদের সময় দেবেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি সম্মান রেখেই বলছি, ১৫ তারিখের অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অডারে দাঁড়িয়ে আমি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। মাননীয় স্পিকার আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যথাযথভাবে নোটিশটি সাবমিট করার জন্য। তা আমরা করেছি। আমি এই মহান সংসদ আপনার মাধ্যমে এই নোটিশটি উত্থাপন করলাম। নোটিশের বিষয় হচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫। যেটা আদেশ নম্বর-১ এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে। নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এ বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলো। আপনি আলোচনার জন্য মঞ্জুর করবেন। এ সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
পরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী তারকাচিহ্নত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরেই যেকোনো বিষয় আলোচনার জন্য উত্থাপন করবো। বিরোধীদলীয় নেতা যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন ৭১ বিধি শেষ করার পরে যদি আপনি চান, তাকে সময় দিতে পারেন, আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারি।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সেদিন স্পিকার বলেছিলেন, আলোচনার এ ধরনের কোনো বিষয় থাকলে কেবল প্রশ্ন উত্তরের পরেই হবে। আমি সেই মোতাবেকই দাঁড়িয়েছি। আমি মনে করি, এটা আমার অধিকার এবং দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, আপনি এটা এভাবেই গ্রহণ করবেন। এসময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি সবাইকে সম্মান জানাতে চাই। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বিগত দিনে মাননীয় স্পিকার তাকে অনুরোধ করেছিলেন বিধি মোতাবেক নোটিশ দেয়ার জন্য এবং সে অনুযায়ী আলোচনার সময় দেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সরকারি দলের চিফ হুইপের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের ট্রেডিশন অনুসারে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ৭১ বিধির পরেই এ জাতীয় প্রস্তাব বা নোটিশ উত্থাপিত হয়। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) সেই কথাটাই মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেছেন। এখানে আমার মনে হয় না কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকারের এখতিয়ারের বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭১ বিধিতে আপনি আজকে উত্থাপন করার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না-সেটাও আপনার এখতিয়ার। তবে এটা সংসদ সদস্যদের একটি অধিকার। এরপরে যদি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা তার নোটিশের প্রস্তাবটা উত্থাপন করেন, তবে তার বিপক্ষে হয়তো আমাদেরও দু-চার কথা বলার থাকতে পারে, যা আমরা পয়েন্ট অব অর্ডার ফর্মুলেট করেই বলবো।
ডেপুটি স্পিকারকে সংসদ পরিচালনায় বিধি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, আপনি বিধি মোতাবেক এগিয়ে যান। আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, আপনি যেভাবে ‘অর্ডার অব দ্য ডে’ পরিচালনা করতে চাচ্ছেন, দয়া করে সেভাবেই যান, যাতে অন্য সদস্যদের অধিকারও রক্ষিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। স্পিকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় টেবিল চাপড়ে মাইক অন করে দেয়ার জন্য বলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। যার ফলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে মাইক অন হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মাননীয় স্পিকার আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি, এই সংসদ কীভাবে গঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এখানে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এখন সংসদের কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি যেকোনো জনগুরুত্ব ইস্যুর তুলনায় সবেচেয়ে বেশি গুরুত্বসহকারে এই সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। এর সুরাহা হওয়া উচিত। এরপরে দৈনন্দিন কার্যকম হওয়া উচিত। আজকে বিধি মোতাবেক বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশ দিয়েছেন। আমরা আপনার এবং এই হাউজের প্রতি আবেদন জানাতে চাই, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের ওপর আগে আলোচনা হোক।
পরে (বিধি-৭১)-এর আলোচনা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ বিবৃতি তুলে ধরতে বলেন ডেপুটি স্পিকার। এরপরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে মূলতবি প্রস্তাব দেন শফিকুর রহমান। জনগুরুত্বসম্পন্ন এ বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য স্পিকারের কাছে কার্যপ্রণালি-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে তিনি এ মূলতবি প্রস্তাবের নোটিশ প্রদান করেন।
এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে বিরোধী দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সরকারি দলের এই শপথগ্রহণ না করার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।
ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি: ওদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বজনপ্রীতির কারণে গ্রামাঞ্চলে সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাগুলো এখনো কাঁচা রয়েছে। এই রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক মাসের মধ্যে উপলব্ধি করতে পারছে। গত অন্তর্বর্তী সরকারে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় ফান্ড (তহবিল) নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাগুলো একেবারেই অবহেলিত থেকে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার এ ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
বিএনপি’র সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা মহানগরীর ১২১টি রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮৩টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮টি। বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নামে সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
যুব প্রশিক্ষণের নামে বিগত সময়ের দুর্নীতি ও যারা সুযোগ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা: যুব প্রশিক্ষণের নামে গত ১৬, ১৭ বছর অনেক বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে এবং যারা সুযোগগুলো নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অধিবেশনে সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে উত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমি আপনার সঙ্গে অনেকটাই একমত যে আমি অল্প সময় দায়িত্ব নেয়ার পরে আমরা যেটা দেখেছি যে, বিগত ১৬ বছর এই যুব উন্নয়ন বা যুব প্রশিক্ষণের বিভিন্ন নামে অনেক বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে।
দুর্নীতিকে আমরা কখনোই কোনো প্রশ্রয় দেবো না। যারা অবৈধভাবে বিভিন্নভাবে এই সুযোগগুলো নিয়েছেন, তাদেরও আমরা বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। পাশাপাশি আমরা যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য, যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা রয়েছেন, সে নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে আগামীতে আমাদের যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে যে আমাদের কার্যক্রম এবং কীভাবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা আরও ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে পারি এবং প্রশিক্ষণগুলো যাতে একদম সঠিকভাবে করা হয়- সেগুলো আমি নিজে তদারকি করবো ভবিষ্যতে।

BAD MOUTH
২ মাস আগেযেহেতু জনগণ বিএনপিকে দুই তৃতীয়ংশ এর বেশি আসনে নির্বাচিত করেছেন প্রাক নির্বাচন সংস্কার ও সনদ এর ব্যাপারে দেশবাসী বিএনপির ব্যাখ্যাকেই গ্রহণ করেছেন।