সোনাবাজু বেড়িবাঁধে স্লুইচগেট গেট স্থাপন ও কচুরিপানা অপসারণের জোর দাবি দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের

সোনাবাজু বেড়িবাঁধে স্লুইচগেট গেট স্থাপন ও কচুরিপানা অপসারণের জোর দাবি দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের

ফন্ট সাইজ:

দোহার উপজেলার সোনাবাজু বেড়িবাঁধে দ্রুত স্লুইচগেট গেট স্থাপন ও ইছামতী নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম নামে দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠন দু’টি নদীর নাব্যতা সংকট, পানি প্রবাহে বাধা এবং পুরো নদীটি কচুরিপানায় আটকে যাওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গতকাল বিকালে সংগঠন দু’টির ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সোনাবাজু বেড়িবাঁধ ও কাশিয়াখালী বোয়ালী এলাকা পরিদর্শন করেন।

নদীটি বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে দুই সংগঠনের ব্যানারে কাজ করা সংগঠক রাশিম মোল্লার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার এবং সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সভাপতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সরজমিন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং নদীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা লক্ষ্য করেন, সøুইস গেটের অভাবে পানি চলাচল স্বাভাবিক নেই। শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে ইছামতী নদীর বিভিন্ন অংশ কচুরিপানায় ভরে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, কৃষকরাও সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এলাকার জীবিকা ও পরিবেশ উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠন দু’টির নেতারা বলেন, ইছামতী নদী শুধু একটি জলাধার নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অর্থনীতির সঙ্গে ওত প্রোতভাবে জড়িত। নদীটি রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ড. আবুল হোসেন খন্দকার বলেন, সোনাবাজু বেড়িবাঁধ ও ইছামতী নদী রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তিনি দ্রুত স্লুইচগেট গেট স্থাপন, নদী খনন এবং কচুরিপানা অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, এটি শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি একটি পরিবেশগত সংকট। নদীটি কচুরিপানায় আটকে যাওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিবে। এখনই উদ্যোগ না নিলে জলজ পানি বিশেষ করে মাছ মরে ভেসে উঠবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক খালিদ হোসেন সুমন, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক দুলাল দেওয়ান, দপ্তর সম্পাদক ইহসান আননূর, নৌকা বাইচপ্রেমী শেখ আহাম্মদ আলী, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, খালিদ বিন ওয়াহিদ কনক, প্রচার সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা প্রমুখ।
তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সøুইস গেট স্থাপন, নদী খনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ইছামতী নদী ও সোনাবাজু বেড়িবাঁধকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন