অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)-এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনডার লিয়েন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষরের পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন উরসুলা ভন ডার লিয়েন। যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘তারা অস্ট্রেলিয়া-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।’ চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত করার জন্য উভয়পক্ষ তাদের নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে তারা জানান।
তারা আরও বলেন, ‘‘উভয়পক্ষ প্রতিরক্ষা ও শিল্প সহযোগিতা, সাইবার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমসহ ‘যৌথ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। সহযোগিতার এই স্তম্ভগুলো যৌথ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সমর্থনে একটি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া-ইইউ অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ-এর মধ্যে গভীরতর সম্পৃক্ততার সুযোগ করে দেয়।’’
অস্ট্রেলিয়া সরকার গত ৮ বছর ধরে ইইউ-এর বাণিজ্য চুক্তি করার চেষ্টা করে আসছে। যার মূল বাধা ছিল কৃষি পণ্যের প্রবেশাধিকার। বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিভিন্ন পণ্যের নামকরণের অধিকার। যার মধ্যে রয়েছে প্রসেকো ও ফেটা চিজ এবং অস্ট্রেলিয়া কী পরিমাণ গরু ও ভেড়ার মাংস রপ্তানি করতে পারবে সেই বিষয়গুলো। সর্বশেষ ২০২৩ সালে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘আট বছরের আলোচনার পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইইউ-এর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে। এই চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এটি আমাদের জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। এই চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়া এবং ইইউ-এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা কমিয়ে দেবে। বাণিজ্যই বিশ্বজুড়ে মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। আর এই পরিপূরকতা বিশ্বের জন্য একটি বার্তা। আমার সরকার মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যে দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বাস করে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চুক্তির ফলে ওয়াইন, সামুদ্রিক খাবার এবং উদ্যানজাত পণ্যের মতো রপ্তানির ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেয়া হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তারা ইইউ-এর গরুর ও ভেড়ার মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, চাল এবং চিনি কেনার সুযোগ পাবেন। এই চুক্তিটি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক এবং এটি সম্পন্ন করা উভয় দেশের স্বার্থেই ছিল বলে।’
উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা এবং আমাদের সমাজের ওপর গ্যাস ও তেলের দামের ধারাবাহিক প্রভাব আমরা সবাই অনুভব করছি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আমরা যে সংঘাত দেখছি, তার অবসান ঘটিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।’
ইইউ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনা শেষ করায় তিনি কৃতজ্ঞ। এই চুক্তিটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক হবে। এই চুক্তি আপনাদের জিডিপিতে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উচ্চ মানের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি করা আরও সহজ হবে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নে অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি শুল্কমুক্ত হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের উচ্চ মানের পরিষেবা প্রদানের আরও সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ-এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর
আলমগীর হোসেন রুহেল, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে
অনলাইন
২ মাস আগে
২৪ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৪ঃ২০ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
