আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর ১০০ দিনও বাকি নেই। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় এবারই প্রথম চার বছরের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ চক্রে কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের মোকাবিলা না করেই বিশ্বমঞ্চে পা রাখবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! মঙ্গলবার আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানায়, শেষ প্রস্তুতি হিসেবে গুয়াতেমালার সঙ্গে খেলবে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধাবস্থার কারণে স্পেনের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ বাতিল হয়ে গেছে কয়েকদিন আগে। একই পরিণতি, কাতারের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের প্রস্তুতি ম্যাচটিরও। ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) ও এএফএ’র পক্ষ থেকে লিওনেল মেসি-লামিন ইয়ামালের ম্যাচটি ইউরোপের অন্য কোনো ভেন্যুতে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। তবে তারিখ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটি ভেস্তে যায়। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে মাঠে নামা হচ্ছে না লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।
অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, কাতার বিশ্বকাপের আগেও জার্মানি, ইতালি ও এস্তোনিয়ার মতো ইউরোপিয়ান দলের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টাইনরা। ১৯৮২ বিশ্বকাপের আগে তো ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২২ ম্যাচ খেলে তারা। অথচ এবারের বিশ্বকাপের আগে কেবল দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্ব, কুরাসাও, ইন্দোনেশিয়া ও গুয়াতেমালার মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এএফএ’র বাণিজ্যিক কৌশল ও ভেন্যু নির্বাচনের কারণে বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার।
ফিনালিসিমা বাতিলের পর মঙ্গলবার এএফএ জানায়, আগামী ৩১শে মার্চ ঘরের মাঠে গুয়াতেমালার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। এবং বিশ্বকাপের আগে এটিই হবে স্কালোনির দলের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ম্যাচটি বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কনসার্টের কারণে ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামটি খালি পাওয়া যাবে না। তবে অনেকেই এই লা বোম্বানেরা স্টেডিয়ামকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করছে। কেননা, ২০২২ বিশ্বকাপের আগে আলবিসেলেস্তেরা এখানেই তাদের শেষ ম্যাচটি খেলে।
আসন্ন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি শেষ পর্যন্ত মাঠে নামবে কি না, তা নিয়ে এখনও সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়নি কারও কাছ থেকেই। স্বয়ং মেসিও এ বিষয়ে ধোঁয়াশাই রেখেছেন। এর মধ্যে কোনো ইউরোপিয়ান শক্তির বিপক্ষে নিজেদের না ঝালিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেয়াটা আর্জেন্টিনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ বৈকি!
