বিশ্বকাপ ভাবনায় ‘ওপেনিং সংকট’ তামিমের সঙ্গী কে!

বিশ্বকাপ ভাবনায় ‘ওপেনিং সংকট’ তামিমের সঙ্গী কে!

ফন্ট সাইজ:

গত রোববার মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছে ১১ রানের এক রোমাঞ্চকর জয়। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। তবে দলগত অর্জনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে একটি ব্যক্তিগত ইনিংস। দীর্ঘ ২৭ মাসের খরা কাটিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন কোনো বাংলাদেশি ওপেনার। ২৩ বছর বয়সী উদীয়মান বাঁহাতি ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম খেলেছেন ১০৭ বলে ১০৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। তানজিদের এই পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশ ২৯০ রানের এক সম্মানজনক পুঁজি পায়।

আধুনিক ক্রিকেটে এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই বর্তমান দলের মূল দাবি। এই অনবদ্য সেঞ্চুরির মাধ্যমে তানজিদ জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। স্বস্তির খবরের পরপরই নতুন অস্বস্তি উঁকি দিচ্ছে নির্বাচকদের মনে। এখন বাংলাদেশ দলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, ইনিংস উদ্বোধনে তানজিদের যোগ্য ও স্থায়ী সঙ্গী হবেন কে? দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে এই পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে একপ্রকার মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা চলছে।

২০২৭ বিশ্বকাপ ভাবনায় দলের বৃহত্তর স্বার্থে এই ওপেনিং শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের টপ-অর্ডার নিয়ে সামপ্রতিক পরিসংখ্যানগুলো বেশ হতাশাজনক। গত ১২ মাসে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির গড় রান মাত্র ২৩ থেকে ৩১। ভারতের গড় যেখানে ৫৬ এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ৪৯, সেখানে বাংলাদেশ যোজন যোজন পিছিয়ে রয়েছে। শুরুর ব্যাটাররা দ্রুত সাজঘরে ফেরায় মিডল অর্ডারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে সাইফ হাসানকে তানজিদের সঙ্গী হিসেবে বাজিয়ে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। গত ম্যাচে তানজিদ ও সাইফ মিলে ১০৫ রানের দারুণ এক উদ্বোধনী জুটি উপহার দিলেও সাইফের ধারাবাহিকতার বড় অভাব রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯টি ওয়ানডে খেলে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২৫.৭৭।

সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সিরিজেও তার স্কোর ছিল যথাক্রমে ৪, ১২ ও ৩৬। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান পেলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি বারবার খেই হারাচ্ছেন। তবে সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান সাইফকে পর্যাপ্ত সময় দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, সাইফের ব্যাটিংয়ে কোনো কারিগরি ত্রুটি নেই, মূল সমস্যাটি কেবল মানসিক। তাকে টানা সুযোগ দেয়া হলে তিনি দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। সাইফ ছাড়াও ওপেনিং পজিশনে প্রবল আলোচনায় আছেন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আগ্রাসী খেলার ধরন দলের জন্য সবসময়ই বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সৌম্য ও সাইফ মিলে ১৭৬ রানের এক বিশাল জুটি গড়েছিলেন। সেই ম্যাচে সৌম্য ৯১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন। তুষার ইমরানের মতে, সৌম্য একজন পরীক্ষিত খেলোয়াড় এবং তার শক্তির জায়গা ও দুর্বলতা সম্পর্কে টিম ম্যানেজমেন্ট অবগত আছে। অন্যদিকে, প্রতিভাবান লিটন দাসও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছেন। পাকিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচেও তিনি ৫১ বলে মাত্র ৪১ রান করে আউট হন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ অন্তত ১০ জন ওপেনারকে পরখ করে দেখেছে, কিন্তু কেউই আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিতে পারেননি।

২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে। সেখানকার গতির স্বর্গরাজ্য ও বাউন্সি উইকেটে কাগিসো রাবাদাদের মতো বিশ্বসেরা পেসারদের সামলাতে একজন নির্ভরযোগ্য ওপেনার প্রয়োজন। তানজিদ ও লিটন জুটি নিয়ে বিসিবি আশাবাদী থাকলেও তারা সফল হতে পারেননি। তাই বিশ্বকাপের জন্য সঠিক ওপেনিং জুটি বাছাই করা এখন নির্বাচকদের জন্য বড় মাথাব্যথা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন