উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের ঘরের মাঠে হারতে বসেছিল বার্সেলোনা। শেষ সময়ে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে কাতালান শিবিরে স্বস্তি ফেরান লামিন ইয়ামাল। ১-১ গোলের সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এবার ফিরতি লেগে আজ নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। এ ম্যাচে যে দল জয়লাভ করবে, তারা পৌঁছে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রথম লেগে হারতে হারতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া বার্সার চ্যালেঞ্জ- চেনা পরিবেশে নিউক্যাসেল বাধা টপকে সেরা আটে জায়গা করে নেয়ার। তিনদিন আগে লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ৭ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই জিতে নেয় বার্সেলোনা। এ জয়ে লীগ টেবিলে শীর্ষে আছে কাতালানরা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিউক্যাসেলের মুখোমুখি হচ্ছে বার্সা। ম্যাচের প্রথম লেগে নিউক্যাসেলের পারফরম্যান্স নিয়ে শিষ্যদের সতর্ক করেন ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘নিউক্যাসেল পাল্টা আক্রমণে (ট্রানজিশন) বেশ দক্ষ। প্রথম লেগ অনেকটা তাদের পক্ষেই ছিল। তবে বলের দখল রেখে আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি।’ বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি নিজেদের সেরা খেলা উপহার দেয়ার আশা রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন কিছু বিপজ্জনক খেলোয়াড় আছে যারা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। প্রথম লেগের ড্র আমাদের জন্য ভালো ফল। এখন ঘরের মাঠে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে হবে।’ এবারের চ্যাম্পিয়নস লীগে বার্সেলোনার জন্য বড় দুশ্চিন্তা- তাদের রক্ষণভাগ। গত ১২ ম্যাচে একটিতেও ক্লিন শিট রাখতে পারেনি কাতালানরা। যদিও আক্রমণভাগে বার্সেলোনা অপ্রতিরোধ্য। গত ২৯ ম্যাচের একটিতে (চেলসির বিপক্ষে ৩-০ হারের ম্যাচ) তারা গোল করতে পারেনি। রক্ষণভাগের দুশ্চিন্তা ছাড়াও চোট সমস্যা রয়েছে বার্সার। জুলস কুন্দে, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, আলেজান্দ্রো বালদে এবং আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের মতো তারকারা চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। তবে বার্সার জন্য স্বস্তির খবর লামিন ইয়ামালের ফেরা। সেভিয়া ম্যাচে বদলি হিসেবে নামলেও আজ নিউক্যাসলের বিপক্ষে শুরুর একাদশে তার থাকা নিশ্চিত। এ ম্যাচে নতুন রেকর্ডের সামনে ইয়ামাল। ১৯ বছরের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লীগে সর্বোচ্চ ১০ গোল আছে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে ইয়ামালের চাই আর ২ গোল।
নিউক্যাসলকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্লে-অফে কারাবাখকে ৬-১ গোলে হারানোর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে চেলসিকে হারিয়েছে তারা। বার্সাকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারাতে পারলে অনেকগুলো রেকর্ড গড়বে নিউক্যাসেল। ক্যাম্প ন্যু ও বার্সাকে ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে প্রথমবার হারানোর রেকর্ড গড়বে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগে টানা দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়াবে ম্যাগপাইরা। যদিও ক্যাম্প ন্যুর পরিবেশ তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে তুখোড় ইন-গেম ট্যাকটিকস দিয়ে বার্সার দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়ার ছক কষছেন নিউক্যাসেল কোচ এডি হাও। তিনি বলেন ‘আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। ক্যাম্প ন্যু-তে ম্যাচটি ভিন্ন পরিস্থিতির হবে ঠিকই, কিন্তু প্রথম লেগে আমরা দেখিয়েছি যে আমরা তাদের বিপদে ফেলতে পারি। আমরা সেখানেও একই চেষ্টা করবো।’ পরিসংখ্যান অবশ্য বার্সার পক্ষে কথা বলছে। অতীতে ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের বিপক্ষে খেলা দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে কাতালানরা। এ ছাড়া প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ড্র করার পর গত ১০ বারের নকআউট পর্বে প্রতিবারই পরের রাউন্ডে উঠেছে বার্সা। অন্যদিকে, স্প্যানিশ দলগুলোর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে নিউক্যাসলের রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হারতে হয়েছে তাদের। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বার্সার জন্য নিউক্যাসল মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। চ্যাম্পিয়নস লীগে শেষ ছয় ম্যাচে অপরাজিত থাকা ‘ম্যাগপাই’রা টানা দ্বিতীয় অ্যাওয়ে জয়ের খোঁজেই মাঠে নামবে।
ক্যাম্প ন্যুতে বার্সা কি পারবে নিউক্যাসেল বাধা টপকাতে?
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৮ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
