কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন আফগান ক্রিকেটাররা

কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন আফগান ক্রিকেটাররা

ফন্ট সাইজ:

কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত ও ২৫০ জন আহতের কথা জানিয়েছে আফগানিস্তান সরকার। সোমবারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, নাভিন উল হক, আজমতউল্লাহ ওমরজাইরা। আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম রশিদের মতে, পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধ করেছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না শীর্ষ অলরাউন্ডার নাভিন-উল-হক। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ কাবুলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রমজান মাসে রোজার পর বাইরে থাকা স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, মাদকাশক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রটির পুরো অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। বরাবরের মতো এবারও পাকিস্তানের হামলায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আফগান ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়ক রশিদ খান লেখেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সবশেষ খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক অথবা ভুলবশত, বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা চিকিৎসা পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবনকে এতটা নগণ্য করে তোলা অত্যন্ত জঘন্য কাজ এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ অল্প কথায় তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন পেসার নাভিন-উল-হক। তিনি লেখেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের শাসনামলের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।’ আফগান ক্রিকেটের প্রথম তারকা নবী লেখেন, ‘আজ রাতে কাবুলের একটি হাসপাতালে আশার আলো নিভে গেল। সুস্থ ও নতুন জীবনের আশায় যে সব তরুণকে তাদের পরিবার এখানে রেখেছে, বোমার আঘাতে তাদেরকে আমাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের মা এবং আত্মীয়রা হাসপাতালের দরজার বাইরে একত্রিত হয়েছে, সবাই তাদের ছেলের নাম ধরে এবং খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।’ আরেক শীর্ষ অলরাউন্ডার আজমাতউল্লাহ ওমারজাই লেখেন, ‘কাবুলে আজ রাতে আমরা শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আক্রান্ত একটি হাসপাতাল থেকে আগুনের শিখা আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়। রমজান মাসে মানুষ রোজা ভাঙার পর নিরীহদের এমন প্রাণহানি ঘটলো এবং আরও অনেকে আহত হলেন। আজ রাতে প্রতিটি শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইলো। কাবুল শোকে ছেয়ে গেছে। আমরা ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রার্থনা করি।’ তবে তালেবান সরকারের এমন দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, সোমবার রাতে তারা ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন