ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন ব্লেসিং মুজারাবানি। শুক্রবার তাকে দলে নেয়ার কথা জানায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অথচ এ জিম্বাবুইয়ান পেসারের খেলার কথা ছিল পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল)। বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের খবর, মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পিসিবি। পিএসএলে গত মাসে অনুষ্ঠিত নিলামে অবিক্রীত ছিলেন ২৯ বছর বয়সী মুজারাবানি। তবে ক্যারিবিয়ান পেসার শামার জোসেফকে ছেড়ে দেয়ায় তার জায়গায় সরাসরি মুজারাবানিকে সই করায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। অথচ সেই জিম্বাবুইয়ান পেসার এখন বর্তমান ও তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের দলে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, ইসলামাবাদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে জানিয়েছেন মুজারাবানি। আর তাতেই চটেছে পিসিবি।
১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে এ ডানহাতি পেসারকে দলে টানে ইসলামবাদ। জিও সুপার জানায়, আইপিএলে খেলতেই পিএসএলের চুক্তি ছেড়েছেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে পিসিবি। গত বছর একই কারণে পিএসএল থেকে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হন করবিন বশ। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডারকে সেবার ডায়মন্ড ক্যাটাগরি থেকে দলে নেয় পেশোয়ার জালমি। তবে পরে তিনি ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে যোগ দেন। পিএসএল থেকে এভাবে সরে দাঁড়ানোর কারণে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় বশকে। কলকাতা শিবিরে মূলত টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় ডাক পেলেন মুজারাবানি। গত ডিসেম্বরের নিলাম থেকে ৯.২ কোটি ভারতীয় রুপিতে কাটার মাস্টারকে দলে ভেরায় কলকাতা। তবে উগ্রপন্থীদের তোপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিশেষ নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেই ঘটনার জল গড়ায় অনেকদূর। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই মুজারাবানিকে নিশ্চিত করলো শাহরুখ খানের দল। এদিকে বসে নেই মোস্তাফিজও। আগামী ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পিএসএলে টাইগার পেসার মাঠ মাতাবেন লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করেন মুজারাবানি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিধ্বংসী এক স্পেলে ৪ উইকেটসহ ৬ ম্যাচে নেন মোট ১৩ উইকেট।
