তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। সেইসঙ্গে তিনি সরকার পরিবর্তনের জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার কেরলমের কোচিতে একটি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপকে বলেছেন, সরকার পরিবর্তন কেবল নির্বাচনের মাধ্যমেই হতে পারে। তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য তার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কোচিতে এই প্রতিবাদ সভাটি সিজেপি’র ‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, দীপ দাবি করেছেন- এনডিএ সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করার জন্য দেশের যুবকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রের কাছে জ্ঞানেশ কুমার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
তিনি বলেছেন, তরুণ বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের প্রশ্ন করতে শুরু করায় কেন্দ্র তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দীপকে বিজেপি’র বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার অভিযোগও করেছেন। রাজনৈতিক স্বার্থে দাঙ্গা ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
সিজেপি নেতা বলেছেন, ‘এরাই দেশের সেই তরুণ, যাদের আপনারা নৈরাজ্যবাদী বলছেন। না, স্যার, আমরা নৈরাজ্যবাদী নই। আমরা আম্বেদকরপন্থি, আমরা গান্ধীবাদী। আমাদের নৈরাজ্যবাদী বলার সাহস করবেন না।’
দীপকে ২০২৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
রাজেন্দ্র ময়দানের এদিনের সমাবেশে বিভিন্ন বয়সের বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বেশ কয়েকটি যুব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নিয়েছিলেন।
জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশের জন্য সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে দিল্লিতে তার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে দীপকে বলেছেন, তিনি যেখানেই যান না কেন, ত্রিবর্ণ পতাকা বহন করে চলবেন। তার কথায়, ‘এই ত্রিবর্ণ পতাকা ওড়ানোর জন্য আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও এটি ওড়ানোর জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। ভারতে শেষবার এমনটা হয়েছিল যখন আমরা বৃটিশদের শাসনাধীন ছিলাম।’
এনডিএ সরকারকে বৃটিশ শাসনের সঙ্গে তুলনা করে দীপ দাবি করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চান, তবে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা বা তামিলনাড়ু থেকে করতে পারেন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করুন, কিন্তু আমি আবার ফিরে এসে এই ত্রিবর্ণ পতাকা ওড়াবো।’
দীপ দাবি করেছেন যে, কেন্দ্র ধীরে ধীরে মানুষ কী খাবে, কাকে বিয়ে করবে এবং কাকে ভোট দেবে- তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তার মতে, এখন তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় আপনি কাকে ভোট দেবেন।
দীপকে বলেছেন, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশটি মূলত নীরব ছিল, কিন্তু যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মানুষকে তাদের কণ্ঠ ও সাহস ফিরে পেতে সাহায্য করেছে।
