সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিঃস্ব ৩শ’ পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিঃস্ব ৩শ’ পরিবার

ফন্ট সাইজ:

২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছয় বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে তথ্য দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং বাবা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। অর্থাৎ ১৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং ১৫৯টি মোটরসাইকল দুর্ঘটনায় বাবা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অটোরিকশা যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২১১টি। তিনজন নিহতের ঘটনা ১১৮টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯২টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ৫৩টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ৩৮টি এবং সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। মোট ৫২৫টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭২৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাইক্রোবাসের আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৪৬টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৩৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ২৮টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা চারটি এবং ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে একটি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন। প্রাইভেটকার আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। তিনজন নিহতের ঘটনা ৩১টি, চারজন নিহতের ঘটনা ২৪টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন।

আবার, এম্বুলেন্স আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১৫টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা সাতটি, আটজন নিহতের ঘটনা তিনটি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। বাসযাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৯টি, চারজন নিহতের ঘটনা ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত। এবং পিকআপভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে একটি।

রোড সেফটি জানায়, পরিবারের সবাই একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস এবং এম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা, মাইক্রোবাস এবং এম্বুলেন্সচালকদের অদক্ষতা ও বিশ্রামহীন ড্রাইভিং করা, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা দুর্ঘটনার বাড়িয়েছে।