দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, পর্যালোচনায় তাতে যথেষ্ট গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এসব অসঙ্গতির প্রমাণও মিলেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। রোববার রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ এর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ছাড়া দেশ কোথায় আছে, কোথায় যেতে চায় কিংবা কোথায় ভুল হচ্ছে, তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই পরিসংখ্যানের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ের পরিসংখ্যান নিয়ে ফরেনসিক অডিট করা হয়েছে। ভোক্তা মূল্যসূচকসহ (সিপিআই) বিভিন্ন তথ্য এখন বিবিএস নিজেই প্রকাশ করছে, মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই তথ্যের বিকৃতি হতে দেয়া হবে না। সরকার জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সহজলভ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই কার্যকর পরিকল্পনা, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস এবং সুষম ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। এসব অগ্রাধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, সম্পদের সুষম ও সুষ্ঠু বণ্টন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সঠিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আধুনিক, দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে নীতির বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিসংখ্যানের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।
