চিহ্নিত দুই সমস্যা। একটি মাদক, অন্যটি যানজট। সিলেটের এই দুই সমস্যা দূর করা চ্যালেঞ্জের। বার বার প্রশাসনই এ দু’টি সমস্যার ইতি ঘটাতে চেয়েছে। নানা কারণে পারেনি। পারলেও ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এবারো তাই হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে এ দু’টি সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। এ নিয়ে চিন্তা সব মহলে। মাদক নিয়ে খুব সিরিয়াস সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি তার। এমপি হওয়ার পর থেকে এ ব্যাপারে কঠোর তিনি। ইতিমধ্যে সিলেটের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। কাজ হচ্ছে, তবে নির্মূল হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ রাখার পথ বের করে দিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই। কয়েক মাস আগে সিলেট নগর পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে নির্দেশ দিলেন মাদকের ডিলারদের তালিকা করতে। সেটি করেছে পুলিশ। এ তালিকা দীর্ঘ। ৭০ থেকে ৮০ জন মাদক ডিলার। তাদের হাত ধরেই মাদক ঢুকে সিলেটে। অথচ তারা আড়ালেই থাকে। সিলেটের মাদক স্পটগুলোতে মাদক আসার রুট বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সিলেটের পাশে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা। স্রোতের মতো আসে মাদক। আর এই মাদকে সয়লাব হয় সিলেট নগর। মাদকের কারণেই ঘটছে নানা ঘটনা। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনেও মাদক। এ তথ্য পুলিশের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী সিলেট ত্যাগের প্রাক্কালে এমন তথ্য জানিয়ে গিয়েছিলেন। মাদকের ব্যাপারে তার অবস্থানও ছিল স্পষ্ট। তবে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী কঠোর। পুলিশ ডিলারদের তালিকা করেছে। ধরা পড়ছে না ডিলাররা। বিষয়টি চিন্তার। এ নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন সিলেট বিএনপি’র কর্মকর্তারা। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে- আলোচনায় প্রাধান্য পায় ডিলার সহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি। পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা জানিয়েছেন সীমাবদ্ধতার কথা। সেটি মানতে নারাজ মন্ত্রী সহ বিএনপি নেতারা। দ্রুতই তারা মাদক ডিলারদের গ্রেপ্তার দেখতে চান।
দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রী পুলিশের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকেও এমন নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মাদক বিক্রেতা ও ডিলারদের তালিকা করার বিষয়টি পুলিশ অবগত করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তবে আমরা আর আশ্বাস শুনতে চাই না। আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তিনি বলেন- মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার বলে জানান তিনি। এদিকে বৈঠকে দ্বিতীয় ইস্যুটি ছিল নগরের যানজট দূর করা। দিনে দিনে যানজট বাড়ছে সিলেটে। প্রতিটি পয়েন্টে যানজট লেগেই থাকে। কেন এটি হচ্ছে সেটি ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড ও হকারদের কারণেই যানজট। নগরের প্রবেশমুখ আম্বরখানাতে বেশি যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। এদের মধ্যে বিদেশগামী যাত্রীরাও থাকেন। আম্বরখানা থেকে এয়ারপোর্টে রয়েছে সিএনজি’র বড় স্ট্যান্ড।
সেটি সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের সরিয়ে দেয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। এর বাইরে নগরের একাধিক স্থানে রয়েছে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। রিকশাও দাঁড়িয়ে থাকে। এতে করে যানজট তীব্র হয়। আর নগরে যাতে হকাররা না বসতে পারে সেজন্য পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- নগরের যানজটে কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হকার ও অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। যানজট দূর করতে যা করার প্রয়োজন সব করতে বৈঠকে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন- সড়কে হকার বসছে কিনা, সেটি দেখবে পুলিশ। আর অবৈধ স্ট্যান্ড থাকলে সেটিও পুলিশ উচ্ছেদ করবে। সহযোগিতা চাইলে সিটি প্রশাসন করবে।
