অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে কারসাজি করা মানে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করা। একটি সরকারের ব্যালেন্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। সে কারণে সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্যের স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং জনআস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন অডিটোরিয়ামে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত গোপন রাখার বিষয় নয়, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতিকে গণমুখী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। তথ্যের সঙ্গে কারসাজি করা মানে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করা। তথ্যের সঠিকতা ও জনআস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ নিশ্চিত করতে চাই। অর্থনীতি যদি গণমুখী ও গণতান্ত্রিক না হয়, তাহলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিবিএসকে কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পরিবর্তে ওপেন ডাটা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন বা কোর্স কারেকশন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, উপাত্তের স্বচ্ছতা ও সততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য ছাড়া বৈষম্য দূর করা কিংবা সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবিএসের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমীর খসরু বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচির সঙ্গে বিবিএস যেভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
