‘সমস্যা হলো রিয়াল মাদ্রিদ বড্ড বেশি শক্তিশালী’

‘সমস্যা হলো রিয়াল মাদ্রিদ বড্ড বেশি শক্তিশালী’

ফন্ট সাইজ:

লা লিগার দ্বাদশ রাউন্ডে দারুণ এক জয় তুলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। মেস্তায়া স্টেডিয়ামে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে অল হোয়াইটদের জয় ৩-০ গোলে। ম্যাচের পর নিজের স্বভাবসুলভ হাস্যরসাত্মক কথাবার্তায় ফের আলোচনায় কোচ জোসে মরিনহো। প্রতিপক্ষ কোচ ও বন্ধু হাভিয়ের আগিরেকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ভ্যালেন্সিয়ার সমস্যা কোচিংয়ে নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা অনেক বেশি শক্তিশালী।

ম্যাচ শেষে আগিরের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে মরিনহো বলেন, ‘আমি তাকে হতাশ না হতে বলেছি। কারণ আমার দলের খেলোয়াড়েরা তার খেলোয়াড়দের চেয়ে ঢের এগিয়ে। সমস্যা আগিরের নয়, চমৎকার ও অভিজ্ঞ এক কোচ তিনি। মূল সমস্যা হলো রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলাররা অত্যন্ত উঁচু মানের।’

মেস্তায়ার মাঠে রিয়াল-ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচটি উত্তেজনাকর ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মারাত্মক ট্যাকলে করে লাল কার্ড দেখেন স্বাগতিক দলের ডিফেন্ডার জোসে লুইস গায়ার। ২৮ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভার্দে ও ৩৬ মিনিটে আর্দা গুলেরের গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল। প্রথমার্ধের শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা টানেলে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেগা, রিওহা, মাফেও, রুডিগার ও বেলিংহামের মতো তারকারা সেই উত্তেজনায় অংশ নেন। এমনকি ভ্যালেন্সিয়ার কিছু সূত্র দাবি করে রিয়ালের দুই খেলোয়াড় নাকি স্টেডিয়ামের এক সিকিউরিটি কর্মকর্তাকে আক্রমণ করেন। যদিও হাভিয়ের আগিরে জানিয়েছেন, তিনি ড্রেসিংরুমে সবার আগে চলে যাওয়ায় কোনো ঝামেলা চোখে দেখেননি। ৭৫ মিনিটে রিয়ালের হয়ে শেষ গোলটি করেন এমবাপ্পে।

পুরো ম্যাচজুড়ে মেস্তায়ার উত্তপ্ত পরিবেশ নিয়ে মরিনহো বলেন, ‘মেস্তায়া মানেই আবেগ। ইতিহাসজুড়েই এটি একটি কঠিন মাঠ, যেখানে সমর্থকরা দলের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। রিয়ালের ব্যক্তিগত ও দলীয় শ্রেষ্ঠত্ব দেখে ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়াড়দের হতাশা এবং ফাউলের মাত্রা বেড়ে যায়। ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়া ২৬টি ফাউল করে, যেখানে রিয়াল করে মাত্র ৬টি। তবে আমরা মাথা ঠান্ডা রাখি।’

রেফারিং প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, লাল কার্ডটি সঠিক হলেও এমবাপ্পের হলুদ কার্ড নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।

সব প্রতিযোগিতায় টানা আট ম্যাচ জিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হলেও ঠাসা সূচি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা লুকাননি পর্তুগিজ এই কোচ। তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই দলটির ভবিষ্যৎ দারুণ আশাব্যঞ্জক। আমার একমাত্র চিন্তা কেবল গাদাগাদি করা ম্যাচ সূচি নিয়ে।’

ক্লান্ত ফুটবলারদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হলেও মানসিকভাবে নয়, কারণ জয়ীরা মানসিকভাবে কখনো ক্লান্ত হয় না।’