পাকস্থলীর ক্যান্সার: এক নীরব ঘাতক

পাকস্থলীর ক্যান্সার: এক নীরব ঘাতক

ফন্ট সাইজ:

পাকস্থলীর ক্যান্সার (Gastric Cancer) নিয়ে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ খুব স্পষ্ট না হওয়ায় অধিকাংশ রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসেন। অথচ সময়মতো শনাক্ত হলে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
কেন পাকস্থলীর ক্যান্সার বিপজ্জনক?
এই ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং শুরুতে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের মতো উপসর্গ দেয়। ফলে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। যখন ওজন কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা বা বমিতে রক্ত আসার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তখন রোগ অনেকটাই অগ্রসর হয়ে যায়।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী?
প্রথম দিকে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
১. দীর্ঘদিনের বদহজম
২. অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া
৩. ক্ষুধামন্দা
৪. বুকজ্বালা বা উপরের পেটে অস্বস্তি
৫. বমি ভাব
এই লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা করা হয়।
বিপজ্জনক লক্ষণ
নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
১. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
২. রক্তস্বল্পতা
৩. স্থায়ী পেটব্যথা
৪. খাবার গিলতে কষ্ট
৫. পেটে চাকা অনুভব হওয়া।
ঝুঁকির কারণ
পাকস্থলীর ক্যান্সারের কিছু পরিচিত কারণ রয়েছে:
১. হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ
২. দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রাইটিস
৩. ধূমপান ও তামাক
৪. অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও কোটায় সংরক্ষিত খাবার
৫. পারিবারিক ইতিহাস
৬. পূর্বে পাকস্থলীর অপারেশন
কীভাবে রোগ নির্ণয় হয়?
পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো:
= Upper GI Endoscopy এবং Biopsy
এছাড়া CT scan করে রোগের বিস্তার (staging) নির্ধারণ করা হয়।

চিকিৎসা কী?

১. সার্জারি
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ক্যান্সার অপসারণই প্রধান চিকিৎসা। Subtotal বা Total Gastrectomy বা Lower radical Gastrectomy অপারেশন এর মাধ্যমে পুরো ক্যান্সার ফেলে দেয়া যায়।
২. কেমোথেরাপি
অপারেশনের আগে বা পরে দেওয়া হতে পারে। অগ্রসর রোগে উপশমমূলক চিকিৎসা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরোধের উপায়
H. pylori সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া, ধূমপান ত্যাগ,অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো,শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া, ৪০ বছরের বেশি বয়সে দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক থাকলে এন্ডোস্কোপি করা। মনে রাখবেন পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। দেরি করলে চিকিৎসা জটিল হয়েযায়। যদি দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক, ওজন কমে যাওয়া বা রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ সাধারণ ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
উপসংহার
পাকস্থলীর ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ও প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাময়যোগ্য রোগ। সচেতনতা, সময়মতোপরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে। নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন।


লেখক
ডা: মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন খান
সহকারী অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ
চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন