বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত

সহযোগীদের খবর

বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে নিজেদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেনে পণ্য পরিবহনের সুযোগ চায় প্রতিবেশী ভারত । এ জন্য দেশটির বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে দেশটি । পাশাপাশি তিনটি আন্তসীমান্ত রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালু , ট্রেন গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে সরাসরি বুকিং চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত । অন্যদিকে বাংলাদেশ জানিয়েছে , ভারতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ দেশের লাইন দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে । গত ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের ৩৮ তম আন্তসরকারি রেল বৈঠকের (আইজিআরএম ) কার্যবিবরণীতে দুই পক্ষের এই অবস্থান উঠে এসেছে । বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীটি রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে আজকের পত্রিকার হাতে এসেছে । এতে দেখা যায় , কয়েকটি প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও কারিগরি তথ্য দিতে বলেছে বাংলাদেশ । কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছে । বর্তমানে ভারতের সরকারি- বেসরকারি কনটেইনারবাহী ট্রেনগুলো বেনাপোল সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশ পর্যন্ত কনটেইনার নিয়ে আসে । কনটেইনারগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের পর তা স্থানীয় ট্রেইলার ট্রাকে করে আইসিডি বা অন্যান্য গন্তব্যে নেওয়া হয় । কার্যবিবরণী অনুযায়ী , ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইছে তাদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরদের ( সিটিও ) ট্রেন যেন সরাসরি বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পায় । জবাবে বাংলাদেশ পক্ষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৩৭ তম আইজিআরএমে দেওয়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে । বাংলাদেশ পক্ষ জানিয়েছে , ভারতের কোনো বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটরকে বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে , এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ও দায়ভার ভারতের সরকারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে । বিষয়টি উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ । কার্যবিবরণী যাচাই করলে দেখা যায় , ভারতের প্রস্তাবগুলোর কিছু বিষয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কের দেশটির সক্ষমতায় ইতিমধ্যে থাকলেও বাংলাদেশ তাতে পিছিয়ে । এ কারণে সবই বাংলাদেশের পক্ষে এ মুহূর্তে গ্রহণ করার অবকাশ নেই । বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ দর্শনা- গেদে , পেট্রাপোল - বেনাপোল ও রোহনপুর - সিংহাবাদ রুটে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পরিবর্তে দিন - রাত ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালুর অনুরোধ জানায় । বাংলাদেশ বলেছে , গত দুই বছরে এসব পথে পণ্য পরিবহন কমলেও সম্প্রতি তা বাড়ছে । আন্তসীমান্ত বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে । রোহনপুর - সিংহাবাদ রুটে বাংলাদেশের ট্রেন গ্রহণের গতি বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছে ভারত । তাদের অভিযোগ , ট্রেন গ্রহণে ধীরগতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ের ওয়াগন ও ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে । জবাবে বাংলাদেশ জানায় , ২০২৬ সালের আগস্টে পাঁচটি আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে ৫৭ টি রেক গ্রহণ করা হয়েছে । ইঞ্জিন , জনবল ও লাইন - সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে রোহনপুর - সিংহাবাদ রুটে আরও বেশি রেক গ্রহণ করা কঠিন । বিকল্প হিসেবে অন্য আন্তবিনিময় পয়েন্ট দিয়ে বেশি রেক পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ । এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ওঠানো - নামানোর স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত । জবাবে বাংলাদেশ জানায় , ১২ টি পণ্য খালাস স্টেশনে ‘ ক্লিয়ার স্ট্যান্ডিং লেংথ ‘বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ বাজার, ইব্রাহিমাবাদ, নওয়াপাড়া , ফরিদপুর ও উল্লাপাড়া স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে । ভারতীয় ওয়াগনের ঘূর্ণনকাল পাঁচ দিনের নিচে নামিয়ে আনতে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ও জনবল সমন্বয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । সীমান্তে যানজট কমানোর লক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ের পণ্য স্টেশন থেকে বাংলাদেশের পণ্য স্টেশনে সরাসরি বুকিং চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । বাংলাদেশ জানিয়েছে , এই ব্যবস্থা চালু করতে দুই দেশের রেল ট্রাফিক বিনিময়সংক্রান্ত মৌলিক ও সম্পূরক বিধিমালা সংশোধন করতে হবে । দেশের অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোর ওয়াগন গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এতে চাপ আরও বাড়তে পারে । তাই বর্তমান পুনর্বুকিং ব্যবস্থা আপাতত চালু রাখার পক্ষেই মত দিয়েছে বাংলাদেশ । বৈঠকে ভারত বিসিএন ও বিসিএনএ ধরনের ওয়াগনের অনুমোদিত বহনক্ষমতা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৬ টন করার প্রস্তাব দিয়েছে । বাংলাদেশ জানিয়েছে , পশ্চিমাঞ্চলের সব রেলপথ , সেতু ও কালভার্ট এত বেশি ভার বহনে সক্ষম নয় । তবে নির্দিষ্ট রুটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে ।
রেল প্রকল্প ও পাওনা নিয়ে আলোচনা দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন এবং ঢাকা থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে । এ বিষয়ে ভারতকে আমদানি - রপ্তানি পণ্য পরিবহনের চাহিদার পূর্বাভাস ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে বাংলাদেশ । কুলাউড়া - শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ধীরগতির জন্য ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সংকট , নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি ও ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ । অন্যদিকে ঠিকাদারের পাওনা ৪৫ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত । ঢাকা- টঙ্গী - জয়দেবপুর প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরবরাহের অনুরোধে ভারত আশ্বাস দিয়েছে । দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের পাওনা নিয়েও হিসাবের অমিল রয়েছে । ভারতের ট্রেন দাবি , ২০২৬ সালের জুনে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি । অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে নিট পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা যাত্রীবাহী ট্রেনের হিসাবেও পাওনা রয়েছে । বাংলাদেশ জানিয়েছে , ভারতকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । বৈঠকে দুই পক্ষ নিয়মিত হিসাব হালনাগাদ ও পাওনা সমন্বয়ে সম্মত হয়েছে ।
এ ছাড়া কনটেইনার পরিচালনায় বেনাপোলে ৮০ ওয়াগনের পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ , পরিবহন ভাড়া পুনর্বিবেচনা ও ওপেন টপ কনটেইনার চলাচলের অনুমতি চেয়েছে ভারত । বাংলাদেশ জানিয়েছে , বেনাপোলে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণ সম্ভব হলেও ওপেন টপ কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের যন্ত্রপাতি নেই । এ ছাড়া যশোরসহ চার স্টেশনে কাস্টমস সুবিধা চালুর প্রস্তাবে যশোরের ক্ষেত্রে অসম্মতি এবং নওয়াপাড়ায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ । কমলাপুর আইসিডি থেকে ভারতে পরিবহনের প্রস্তাবও ধীরাশ্রমে নতুন আইসিডি চালুর পর বিবেচনা করার যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়ে ভারতের প্রস্তাব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়েও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে ভারত । ‘ বন্ধন ‘ এক্সপ্রেসে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাস্টমস ও অভিবাসন সেবা চালু এবং পদ্মা সেতু দিয়ে ‘ মৈত্রী এক্সপ্রেস ‘ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি । বাংলাদেশ জানিয়েছে , যাত্রীদের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ধন এক্সপ্রেসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে । আর পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালাতে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে । এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল পরিবহনে লাগেজ ভ্যান বা ভিপিইউ সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ । ভারত এতে সম্মতি জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে । বৈঠকে রেলপথের বিদ্যুতায়ন , বিধিমালা হালনাগাদ , স্টেশন উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে । পরবর্তী আন্তসরকারি রেল বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে । বৈঠকে বন্ধ থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি । এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো . জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ এটা সরকারের সিদ্ধান্ত । বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে যেসব বিষয় ছিল , আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করেছি । ‘ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন , ‘ রাজনৈতিক বিরোধ ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে আলাদা করে দেখতে হবে । দেশের স্বার্থে যা লাভজনক , আন্তর্জাতিক আলোচনায় সেটিই প্রাধান্য দেওয়া উচিত । কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলোর বিশেষায়িত জ্ঞান ও গবেষণার ঘাটতি থাকায় দেশের স্বার্থে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দর- কষাকষি করা কঠিন হচ্ছে ।

প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। আবার দেশের কর্মবাজারও প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী পাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট গ্র্যাজুয়েটের ৬০-৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন। তাদের বড় অংশ সমাজবিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ কর্মবাজারে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ শিল্পমালিকদের।
বিশেষায়িত খাতগুলোতে এই সংকট আরও স্পষ্ট। অনেক প্রার্থীর প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা আছে। কিন্তু ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝা, পণ্য তৈরি করা কিংবা বাস্তব কাজে প্রযুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে।

বণিক বার্তা
বণিক বার্তার  শিরোনাম ‘আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ।’ প্রতিবেদেনে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার টন।
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৩০ টন। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৩৩ টন, যা শতাংশের হিসাবে ৫১ দশমিক ৩১।
বিপরীতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে আমদানি। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের খুচরা মূল্যও কমে এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত জাতের বীজ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ সম্প্রসারণ, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহ উৎপাদন বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ায় মৌসুমের বাইরে বাজারে সরবরাহ ধরে রাখাও সম্ভব হচ্ছে।
তবে উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানে পড়েছেন বলে কৃষকের অভিযোগ। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পেঁয়াজ চাষে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাতে আবারো তৈরি হবে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি।
তাই উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কৃষককে প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সন্দেহের ছায়া পুলিশে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ তথ্যপাচারের অভিযোগে পুলিশের সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আবার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত যারা ভালো ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে নতুনভাবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সে রকম একাধিক কর্মকর্তা আগের মতো ভালো অবস্থানেই বহাল আছেন। তারাই তথ্য পাচার করছেন বলে পুলিশের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।
এ কারণে অতিরিক্ত আইজিপি থেকে এসআই পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার কর্মকর্তার বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকারবিরোধী লোকজনের কাছে পুলিশের গোপন তথ্যপাচারের খবর পাওয়ায় উদ্বিগ্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বড় ঝুঁকিতে জ্বালানি নিরাপত্তা।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। আর আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আমদানি বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান এবং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা কাটছে না।
ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানির অভাবে সেগুলোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
গত পাঁচ বছরে তিনটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে ১০টি প্রকল্প বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই আটকে রয়েছে।
এসব স্থগিত প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় আট হাজার মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, ২০১৮-১৯ সালে দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পর তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগও দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা থাকলেও গ্যাস সরবরাহের বাস্তবতা ভিন্ন।
২০২৬ সালের জুনের শেষ দিকে দু’টি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর সুযোগ থাকলেও পেট্রোবাংলা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার মাত্র ৩৯ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে।
জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের এই সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক চাপ। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল আট হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকায়।

সমকাল
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মোংলা থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত গড়ে তোলা হবে জ্বালানি অবকাঠামো।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এ উপলক্ষ্যে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চ পর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ইত্তেফাক
ইত্তেফাকের শিরোনাম ‘উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকতে পারে ৮ লাখ আসন!’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকতে পারে প্রায় ৫৬ শতাংশ আসন! ‘সহানুভূতির নম্বর’ বন্ধ, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক সংকটে শিখন ঘাটতি ও অতিমাত্রায় মুখস্থ নির্ভরতায় শিক্ষার্থীদের ভিত দুর্বল হওয়ায় গত ২২ বছরের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার সর্বনিম্ন। পাশ করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী। জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার।
সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ আসন ফাঁকা হবে। শতকরা হিসেবে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসন। গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর প্রতিবছরই প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হননি। কেউ চাকরিতে প্রবেশ করেন, কেউ ব্যবসায় যান, কেউ বিদেশে চলে যান। আবার অনেক ছাত্রীরই বিয়ে হয়ে যায়, তাদের অনেকেই পড়ালেখায় ফিরে আসেন না। যদি ঝরে পড়ার হার গত তিন বছরের মতোই থাকে তাহলে আসন খালি থাকতে পারে প্রায় ৯ লাখ আসন!