দেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনের সক্ষমে পরিণত করতে হবে

এআই সামিট উদ্বোধন

দেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনের সক্ষমে পরিণত করতে হবে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। এআই-নির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী দেশ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এআই বিজনেস সামিট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এই আহ্বান জানান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের যৌথ উদ্যোগে এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার নয় বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ আজ এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আগামী দশকে এ পরিবর্তন দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারণ করবে এআই। প্রেসিডেন্ট বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয় বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সমপ্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। এসময় প্রেসিডেন্ট ব্যবসায়ী সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এআই-এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কেবল কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি আমাদের উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি অন্যতম নির্ধারক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী তার বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই-এর অবদান প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে।

তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতন থেকে মানব কল্যাণে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের নীতি ও রূপরেখার আলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ?অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন একটি সমন্বিত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ইনোভেশন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে রাখেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসি), বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।