মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। পরাজয়ের পরই দলটির নেতৃবৃন্দ একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তবে এত বড় ব্যবধানে পরাজয় কোণঠাসা করে ফেলেছে রিপাবলিকানদের। সুর নরম করে তারা আত্মসমালোচনাও করছেন। ইরান যুদ্ধের ফলে যে সমস্যার শুরু হয়েছিলো তারই বড় মাশুল দিতে হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দলকে।
পরাজয়ের আসল কারণ ইরান যুদ্ধ: নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় বোমা ফাটিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক মাধ্যম এক্সে ৬১৪ শব্দের এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করা এই পোস্টে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির আসল কারণ ইরান যুদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, পরাজয়ের এই কারণটি প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট এবং ট্রাম্পও ভোটের রাতে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প যেখানে বারবার দাবি করে আসছিলেন ইরানে হামলা একটি অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, সেখানে ভ্যান্সের এই খোলামেলা অবস্থানকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অজনপ্রিয় যুদ্ধনীতি থেকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলাদা করার একটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভ্যান্স তার পোস্টে জরিপকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের উপস্থিতি কম ছিল না। মূল সংকট তৈরি হয়েছিল কারণ ২০২৪ সালে ট্রাম্প এবং ভ্যান্সকে যারা ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এবার ডেমোক্রেটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোটাররা চলমান ইরান যুদ্ধ, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত দাম এবং ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্কের কারণে চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। ভ্যান্স সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে লেখেন, কেউ যদি যুক্তি দিতে চান যে এই যুদ্ধ সার্থক ছিল এবং আগামী ছয় বছরের জন্য সেনেট হারিয়ে ফেলা এই যুদ্ধের উপযুক্ত মূল্য, তবে তারা তা বলতে পারেন, অন্তত তাতে কিছুটা সততা থাকবে। তবে যেখান থেকেই পরবর্তী আলোচনা শুরু হোক না কেন, পরাজয়ের আসল কারণ যে যুদ্ধ, তা অকপটে স্বীকার করতে হবে। যারা ক্ষুব্ধ হয়ে আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, তাদের প্রতি ভ্যান্স লেখেন, আপনারা ঠিক ছিলেন, আপনারা আমাদের আগেই সতর্ক করেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভকে এমন রিপাবলিকানদের নির্বাচিত করার কাজে লাগাতে হবে যারা এই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে।
ভ্যান্সে চার দফা: ক্ষুব্ধ ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে ভ্যান্স চার দফা সুপারিশ উপস্থাপণ করেন। তার এই চার দফায় রয়েছে: যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেয়া, আমেরিকাকে সবার আগে স্থান দেয়া এবং ইসরাইলের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে পরিবর্তন আনা।
পোস্টটি প্রকাশের আগে ভ্যান্স হোয়াইট হাউসকে অবহিত করেছিলেন এবং ট্রাম্প এতে ইতিবাচক সায় দেন। এমনকি ট্রাম্পের বড় ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পোস্টটি শেয়ার করে লিখেন, ভ্যান্সের প্রতিটি কথাই শতভাগ সত্য। ট্রাম্প পরে বলরুম পরিদর্শনের সময় ভ্যান্সের মূল্যায়নকে মূলত সঠিক এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
