প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পথে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটেও চমক

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পথে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটেও চমক

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন পরীক্ষার রাত। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে একের পর এক অঙ্গরাজ্যে চমক দেখাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। বিশেষ করে সিনেট নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ জয় দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে ডেমোক্র্যাটরা। তবে ভোট গণনা চলায় নিম্নকক্ষের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো নিশ্চিত নয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ফলগুলোর একটি এসেছে উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেট আসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। সিবিএস নিউজ এই বিজয়কে ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আসন পরিবর্তন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আরও বড় চমক এসেছে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাউথ ক্যারোলাইনায়। সেখানে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করে সিনেট আসন জিতেছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

এদিকে জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের হিসাব-নিকাশে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে কানসাস, ওহাইও, টেক্সাসসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ৪৩৫ সদস্যের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। নির্বাচনের আগে ২১৮-২১২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিপাবলিকানরা। মাত্র কয়েকটি আসনের ব্যবধান থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জেলাগুলোর ফলই নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নেতৃত্ব। ভোট গণনা চলায় এখনই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ফল ও নির্বাচনী প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এবারের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন ভাগাভাগির লড়াই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি ও জনপ্রিয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, অর্থনীতি, অভিবাসননীতি এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যু ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রাথমিক নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। বাজেট, সরকারি ব্যয়, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধ আরও বাড়তে পারে। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও জোরদার হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ের পার্থক্যের কারণে পর্যায়ক্রমে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া পশ্চিমাঞ্চল পেরিয়ে আলাস্কা পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর ফল প্রকাশ এবং ভোট গণনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাকি আসনগুলোর ফলের জন্য।