শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও অথচ বোর্ড গঠনের পর এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন পোশাক খাতের শ্রমিক নেতারা। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ডের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সম্ভব হলে বৃহস্পতিবারই যেন বৈঠকটি ডাকা হয়। মঙ্গলবার বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের এক মতবিনিময় সভায় সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।
সভার বিষয়ে আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন স্বপন বলেন, সভা থেকে আবারও শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালেও পরিস্থিতি ভালো ছিল। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় শ্রমিকদের আন্দোলনে দুস্কৃতিকারীরা ঢুকে পড়েছে।
তিনি বলেন, গতবার মজুরি বোর্ড গঠনের পর কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছিল তাদের ব্যাপারে খবর নিলেই এবারের শ্রমঅসন্তোষের পেছনের লোকদের খুঁজে পেতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিরপুরে অসন্তোষের মধ্যে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা ঢুকে পড়েছে। কালো তালিকাভুক্ত কিছু শ্রমিক যারা কোথাও কাজ পাচ্ছে না। তাদের একটা অংশও যুক্তিসঙ্গত কারণে এই আন্দোলনে জড়িত থাকতে পারে। আবার কিছু শ্রমিকের মধ্যেও সরকারবিরোধী মনোভাব থাকতে পারে। তারা হয়তো স্বতস্ফুর্তভাবেই আন্দোলন করছে।
রাজধানীর লালমাটিয়ায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলস এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পোশাক খাতের ঘোষিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের দুই প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের বাংলাদেশ কাউন্সিল–আইবিসি ও শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ–স্কপসহ ৫০টি শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
