জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা

সংবিধান সংশোধন কমিটির ১০ম বৈঠক

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা

ফন্ট সাইজ:

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা, গণভোট, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির এ বৈঠকে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনা হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের দাবি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ও উঠে আসে।

এছাড়া জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়ন, নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্য ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জাতিকে পথ দেখানোর কথা স্মরণ করে তরুণদের কল্যাণে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংসদ সচিবালয় বলেছে, বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সময় বলা হয়, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’-এর কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে সজাগ থাকতে তরুণদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির বিরোধিতা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান পরির্তনের কথা বলছে।

তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। কমিটিতেও প্রতিনিধি দেয়নি। এরপর ১৩ অক্টোবর সপ্তম বৈঠকে শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে যাবে বলেছেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির দায়িত্ব হলো-রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষক, জুলাই যোদ্ধা ও অন্য অংশীজনদের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করা।